নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে, তিনি দেশের ভালো করবেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বঙ্গভবনে বেসরকারি সংবাদমাধ্যম দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব প্রকাশের পর আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেষ অংশ প্রকাশিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার তো খুব অল্প সময় তাকে (তারেক রহমান) দেখা। টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে, রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি উনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়, বিশেষ করে উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে। তাই দেশের ভালো করবেন তিনি, এই বিশ্বাস রাখি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের বাবা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি না যে, আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব। তিনি যেন আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান, এটাই আমার কামনা।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতিকে প্রশ্ন করা হয় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আসার পর আপনার অনুভূতি কী? জবাবে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এখন আমি সম্পূর্ণ চাপমুক্ত ও ভারমুক্ত (হাসি)। দেড় বছর শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করেছি। আমি এখন সম্পূর্ণ রিল্যাক্স।
তিনি আরও বলেন, দেড় বছর ধরে আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, কিভাবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব, কিভাবে বঙ্গভবনকে নিরাপদ রাখব। সেই চাপ এখন পুরোপুরি চলে গেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্বে এখন নির্বাচিত সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের মাধ্যমে চলতি মাসে সরকার গঠন করে বিএনপি। আর এর মধ্য দিয়েই বিদায় ঘটে ড. মোহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।
এই দেড় বছরে সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও অনেকটা আড়ালে ও নিপীড়িত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ে যেন এখন মুক্তির স্বস্তিবোধ করছেন তিনি। সেসব কথাই উঠে এসেছে এই সাক্ষাৎকারে।