জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকারের অভিষেক ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও।
শপথ অনুষ্ঠানের পর এক টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল নতুন সরকারের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন,
‘এই সরকারকে সময় দিতে হবে কোনো কিছু দ্রুত হয়ে যায় না। রাইট পজিশনে রাইট মানুষ নিয়ে আসা খুব ইম্পর্টেন্ট। সবার লাইফের সিকিউরিটিটা ফেরত আসবে সবকিছুর দিক থেকে। আমরা প্রায় দেড় বছর ধরে আশা করছিলাম যে একটা পলিটিক্যাল সরকার আসবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষের যে আশা ওটা পূরণ করবেন। এটার সাথে আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, এই সরকারকে সময় দিতে হবে। কোনো কিছু দ্রুত হয়ে যায় না, ভালো কিছু হওয়ার জন্য সময় দেওয়া লাগবে। আর আমি আশা করি যে বাংলাদেশের প্রতিটা মানুষ তাদেরকে ওই সময়টাই দিবে। যে উনারা যেরকম বাংলাদেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে।’
ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘অবশ্যই স্পোর্টসের বিষয়ে আমার যেটা এক্সপেক্টেশন থাকবে যে, যেই মানুষ যে জায়গায় যোগ্য ওই জায়গায় তাদেরকে দেওয়া। যারা ফুটবলের জন্য ভালো যারা অন্য যেকোনো স্পোর্টসের জন্য ভালো। ওনাদেরকে ওই রাইট পজিশনে রাইট মানুষ আনা খুব ইম্পর্টেন্ট। কারণ বাংলাদেশের স্পোর্টস অনেক ইম্পর্টেন্ট একটা ফ্যাক্টর।’
তিনি দায়িত্বপ্রাপ্তদের সততা ও যোগ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের জন্য, আমি আশা করব যে যারা দায়িত্ব আছেন বা যারা দায়িত্ব পাবেন উনারা সঠিক কাজগুলোই করবেন। হতেই পারে যদি উনি পলিটিক্সের সাথে জড়িত থাকেন আর দীর্ঘ অনেক বছর ধরে যদি পলিটিক্স করেন আর ক্রীড়া নিয়ে যদি কাজ করেন। কেননা আমি মনে করি যে, স্পোর্টসম্যান হয়েছেন দেখে যে স্পোর্টস মিনিস্টার হইতে পারবেন না আমি তা মনে করি না। আমার কাছে মনে হয় যে যারা এই ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কাজ করবেন তাদের প্রত্যেক মানুষের উনি যদি ডিজার্ভিং হয়ে থাকে অবশ্যই।’
রাজনৈতিক অস্থিরতার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে নতুন সরকারের যাত্রা ঘিরে যেখানে প্রত্যাশা ও সংশয়ের মিশ্র সুর, সেখানে তামিম ইকবালের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে ধৈর্য, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার বার্তা। নতুন সরকার কেমন পারফরম্যান্স দেখাবে, তা সময়ই বলে দেবে—তবে জনগণের প্রত্যাশা যে আকাশচুম্বী, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।