সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাকে ‘ভারতীয় দালাল’ আখ্যা দেওয়ায় বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই মন্তব্য ঘিরে ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সমালোচনার মধ্যেই নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, শব্দটি যদি ইংরেজিতে ব্যবহার করতেন, তাহলে হয়তো এত বিতর্ক হতো না। তিনি দাবি করেন, তিনিও একজন দালাল, তবে পার্থক্য হলো তিনি বাংলাদেশের দালালি করেন। তার ভাষায়, বাংলায় শব্দটি শোনার সময় খারাপ লাগতেই পারে, কিন্তু তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।
তামিম ইকবালের কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নে নাজমুল ইসলাম স্পষ্ট অবস্থান নেন। তিনি বলেন, এখানে ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না, কারণ তিনি দেশের মানুষের অনুভূতিই তুলে ধরেছেন। তার মতে, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আবেগ থাকা স্বাভাবিক এবং সেটিই তিনি প্রকাশ করেছেন।
সমালোচনা চলার মধ্যেই ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাজমুল ইসলাম মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুর প্রসঙ্গ টানেন। তিনি লেখেন, ওই সময়ে বাংলাদেশ দল ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ছিল এবং সে কারণে ক্রীড়া উপদেষ্টা ম্যাচ স্থানান্তরের বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে তামিম ইকবাল দেশের সামগ্রিক অনুভূতির বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ভারতের পক্ষে ব্যাট করেছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত মতামত এবং কেউ যেন এটিকে ভিন্নভাবে না নেয়।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিসিবি পরিচালক ও সাবেক অধিনায়কের মধ্যে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন করে দেশের ক্রিকেটে বিভাজন ও রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তামিম ইকবালের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে ঘিরে এমন মন্তব্য জাতীয় দল, বোর্ড এবং সমর্থকদের মধ্যেও প্রশ্ন ও অস্বস্তি বাড়িয়েছে।