ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আর কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন বলছে, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে; পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ভোটার নিবন্ধনের পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত আছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটার হওয়া সম্পন্ন হলে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো জটিলতা দেখছেন না তিনি।
কমিশনার জানান, এক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে—তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং কেপিআই হিসেবে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তা। এই দুই দিক মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তারেক রহমান কোথায় ভোটার হবেন—গুলশানের বাসভবনে নাকি নির্বাচন অফিসে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কমিশনার বলেন, পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে যে কোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হতে পারে এবং যথাসময়ে তা জানানো হবে।
এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হবেন। তবে তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ নিয়মে মাঠপর্যায়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ না থাকায় বিষয়টি পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। ফলে এখন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তারেক রহমান ভোটার হবেন—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঢাকার বাসিন্দা হওয়ায় ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসেই তার ভোটার নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা।
ইসি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর শেষ সময়ে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ভোটার হয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেই নজির অনুযায়ী, সবকিছু অনুকূলে থাকলে তারেক রহমানও বাসায় থেকেই ভোটার হতে পারেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে নিজের একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। বৃহস্পতিবার ঢাকার তিনশ ফুট এলাকায় সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান।” পরিকল্পনার বিস্তারিত না জানালেও তা বাস্তবায়নে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক—দেশের যে কোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হলেই চলবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর। ইতোমধ্যে বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দাখিল করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।