দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, টানা আন্দোলন ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে টানা ১২৫ ঘণ্টার আমরণ অনশনের পর অবশেষে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘আমজনতার দল’। একইসঙ্গে নিবন্ধন পাচ্ছে আরেকটি দল—‘জনতার দল’। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সূত্র জানায়, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিল। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের পর কমিশন মাত্র কয়েকটি দলকে নিবন্ধনের জন্য বিবেচনায় নেয়।
সেই তালিকায় প্রথমে ‘আমজনতার দল’ ও ‘জনতার দল’-এর নাম ছিল না, যদিও দুই দলই দাবি করে—তারা নিবন্ধনের সব শর্ত পূরণ করেছে।
নিবন্ধন না পাওয়ায় আমজনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান ৪ নভেম্বর ইসি ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন। বিরূপ আবহাওয়া, ঠান্ডা ও শারীরিক অসুস্থতা উপেক্ষা করে টানা ১২৫ ঘণ্টা তিনি অনশন চালিয়ে যান।
তার অবস্থার অবনতি হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজ ইসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। জনমতের চাপ বাড়তে থাকায় কমিশনের অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে কমিশন তারেক রহমানকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানায় এবং আবেদন পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরবর্তী এক জরুরি বৈঠকে ইসি নতুন করে কয়েকটি দলের আবেদনের যোগ্যতা যাচাই করে। এ প্রক্রিয়া শেষে সিদ্ধান্ত হয়—‘আমজনতার দল’ ও ‘জনতার দল’—দুটোকেই নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হবে।
ইসির উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংগঠনের বিস্তার, সদস্যসংখ্যা, গঠনতন্ত্রের বৈধতা এবং প্রশাসনিক যোগ্যতা যাচাইয়ের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই দল দুটির প্রতীক বরাদ্দসহ আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করবে এবং জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শক্তির আবির্ভাব ঘটাবে। বিশেষ করে ‘আমজনতার দল’-এর নেতৃত্ব রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।