জামায়াতে ইসলামীর নতুন নায়েবে আমির নির্বাচিত হয়েছেন কারা নির্যাতিত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম। ২০২৬–২৮ সেশনের জন্য তিনি এই পদে দায়িত্ব নেন এবং শনিবার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে শপথ গ্রহণ করেন।
দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান তারসহ কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করান। এটিএম আজহারুল ইসলাম পূর্বে সহকারী সেক্রেটারি, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে কেন্দ্রীয় অন্যান্য নেতাদের ক্ষেত্রে জামায়াত আমির নির্দেশনা দিয়েছেন—আগামী জাতীয় নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারা আগের সেশনের দায়িত্বই পালন করবেন। মজলিসে শুরার পরামর্শের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া মজলিসে শুরার উদ্বোধনী দিনে নব নির্বাচিত আমির হিসেবে শপথ নেন ডা. শফিকুর রহমান। দ্বিতীয় দিনে নীতি-নির্ধারণী আলোচনা ও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদ গঠন করা হয়নি। মজলিসে শুরার মতামত অনুযায়ী যথাসময়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।
শনিবার সমাপনী অধিবেশনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াত অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেছে, এখনও করছে। তিনি বলেন, হকের পথে চললে পরীক্ষায় পড়তেই হবে, আর এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত নীতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এগোতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রত্যেক স্তরে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে, সুদ-ঘুষসহ ইসলাম যে সব বিষয় নিষিদ্ধ করেছে তা কঠোরভাবে বর্জন করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু নেতা প্রতিষ্ঠিত নীতি ও পদ্ধতির বাইরে বক্তব্য দিয়ে থাকেন—তাদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সাফল্যের জন্য আর্থিক কোরবানি এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা ও ঐক্য অত্যন্ত প্রয়োজন। পরে তিনি দেশ-জাতির কল্যাণ ও মুক্তির জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে দোয়া করেন।