আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সরকার পাশ করেছে সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী ধারা ২০–এর পরিবর্তন। সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে — জোটভুক্ত দলগুলি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নামতে হবে; বড় দল বা জোট সম্পর্কিত অন্য দলের প্রতীকে নয়।
গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদ নীতিগতভাবে এই খসড়া অনুমোদন দিয়েছিল। এর পরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও একাধিক সমমনা দল আপত্তি তুলেছে। তারা বলেছিল, এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আলোচনা হওয়া হয়নি। বিএনপি আইনের উপদেষ্টাকে লিখিত আবেদন জানায় এবং ১২–দলীয় জোটও নির্বাচন কমিশনকে স্মারকলিপি পাঠায়।
তবে জামায়াতে ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিধান বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নেয়। অ্যাডভোকেট সাগরীকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয় যে, যদি এই ধারা বদলায়, নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হবে।
সংশোধিত ধারা আগেই ছিল — জোটভুক্ত দল “নিজেদের প্রতীক বা সম্মত একটি প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে”। এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে ছোট দলগুলোর জোটভিত্তিক অংশগ্রহণ কঠিন হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা একমত ছিলাম অনেক বিষয়ে, কিন্তু প্রতীকের বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ আলোচ্য। সাড়া দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে এনসিপি; সেখানে লেখা হয়— “নিবন্ধিত দলগুলোর নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একতরফা আলোচনা নেওয়া হয়নি। এই উপদেষ্টা হিসেবে আপনার অবস্থান সংশ্লিষ্ট।” তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দলের ছাড় দিলে নয়, পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রতি নেতৃপ্রদান করবে।
সরকার বলছে, এই ধারা নির্বাচনকে আরও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জোটভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য। তবে বিরোধী দলগুলোর মতে, এটা বড় দলগুলোর পক্ষে আরও সুবিধাজনক হতে পারে। এখন দেখা যাবে— সংশোধিত ধারা প্রয়োগে কতটা বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়।