বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা তুলে ধরে ২৪ দফার ইশতেহার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক গণসমাবেশে এই ইশতেহার পাঠ করেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা শুধু সরকারের পরিবর্তন নয়, একটি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে চাই। এই ইশতেহার তারই ঘোষণা।”
ইশতেহারের শুরুতেই রয়েছে নতুন সংবিধান ও দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র গঠনের প্রতিশ্রুতি। দলটি স্পষ্ট করেছে, ১৯৭২ সালের বিতর্কিত সংবিধান বাতিল করে একটি গণভিত্তিক ও inclusive সংবিধান আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো জুলাই অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি ও শহীদদের বিচার। এনসিপি বলছে, গণজাগরণে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।
বাকি ২২টি দফায় উঠে এসেছে—বিচারব্যবস্থা সংস্কার, দুর্নীতি দমন, স্বাধীন গণমাধ্যম, জনমুখী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক শিক্ষানীতি, গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লব, নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা ইত্যাদি অঙ্গীকার।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ইশতেহারে ‘বাংলাদেশপন্থী পররাষ্ট্রনীতি’ ও ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল’-এর কথা বলা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শনের ইঙ্গিত দেয়।
এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, এই ইশতেহার কোনো ‘গল্প’ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোর খসড়া। তাদের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থার সংস্কারে নয়, পরিবর্তনেই মুক্তি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এনসিপির এই ঘোষণাকে অনেকেই দেখছেন একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের পূর্বাভাস হিসেবে। অনেকে বলছেন, এই ২৪ দফা হয়তো ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটি গণভিত্তিক বিকল্প শক্তির ছাপ রেখে যাবে।