গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক লাকী আক্তারসহ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার, ধর্ষণের বিচারে দ্রুত ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি এবং একাধিক রাজনৈতিক ও নীতিগত দাবির ভিত্তিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চলবে। বুধবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
হাদী তার বক্তব্যে বলেন, গত ১৪ বছরে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, গোপন নির্যাতন কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে, আল্লামা সাঈদীকে চিকিৎসার নামে হত্যা করা হয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের নির্মমভাবে দমন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের দমন-পীড়নের পেছনে যে চক্র সক্রিয়, তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে শাহবাগ। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নেতা ও আলেমদের এমনভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে যে, তারা যখন কোনো দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়ান, তখনই তাদের ‘উগ্রবাদী’ বলে প্রচার চালানো হয়। অথচ আমরা যখন সচিবালয় কিংবা অন্যান্য জায়গায় প্রতিবাদ জানাই, কেউ বলতে পারবে না যে আমরা পুলিশের গায়ে হাত তুলেছি।
ইনকিলাব মঞ্চ তাদের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে— ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা এবং মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা; লাকী আক্তারসহ ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের কুশীলবদের গ্রেপ্তার করে তাদের ষড়যন্ত্র উন্মোচিত করা; জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শাপলা চত্বর ও অন্যান্য গণহত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত করা; এবং জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার শুরু করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা।
মানববন্ধনে হাদী বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো উসকানি ছাড়া শাহবাগের এক কর্মী লাঠি নিক্ষেপ করেছে এবং পুলিশ কমিশনার মামুনকে উপর্যুপরি আঘাত করেছে। এরপর সাত-আটজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালিয়েছে। কেউ বলতে পারবে যে, গতকাল পুলিশের হাতে লাঠি ছিল? তিনি আরও বলেন, শাহবাগের কর্মীরা ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে গেছে, কিন্তু সেখানে গিয়ে স্লোগান দিয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ তাদের শেষ অস্ত্র হিসেবে শাহবাগের কর্মীদের ব্যবহার করছে এবং নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।
তিনি বলেন, যদি আমরা শাহবাগের মতো হিংস্র মনোভাব নিয়ে চলতাম, তাহলে শাহবাগের কর্মীদের আমরা শাহবাগে লটকিয়ে রাখতাম।
কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিকভাবে বিচার চাই, প্রতিশোধ নয়। হাদী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, লাকী আক্তারসহ শাহবাগ আন্দোলনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অন্তত এক হাজার অভিযোগ রয়েছে। অথচ এই লাকী এখনও রাস্তায় মিছিল করছে, যা জনগণের সঙ্গে উপহাস। তিনি বলেন, আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে এবং কঠোর বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেদ বলেন, শাহবাগের পুরনো চক্র আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা জনগণের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, যারা একসময় আলেমদের নির্যাতনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, আজ তারা আবারও রাস্তায় নেমেছে। তারা যদি মনে করে যে, ২০১৩ সালের মতো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব ফাতিমা আক্তার ঝুমা বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমেছে, সরকারও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু যারা একসময় বিচার চেয়ে ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন করেছিল এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছিল, তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে যে শাহবাগ আন্দোলন ন্যায়ের দাবিতে গড়ে ওঠার কথা ছিল, তা আজ ভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের বলেন, লাকী আক্তারদের কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, তাদের রাজনৈতিক পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ আসলে দেশের বাইরে, বিশেষ করে ভারতের হাতে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড আমরা সফল হতে দেব না এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে তাদের প্রতিহত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবি জুবায়ের, এই লাকী আক্তারদের ঘুড়ি বাংলার আকাশে কিন্তু নাটাই ভারতের হাতে। তাদের এই উদ্দেশ্য আমরা বেঁচে থাকতে সফল হতে দিব না।