জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আমাদের আর ধৈর্যের পরীক্ষা নিবেন না। আমরা ভদ্র কিন্তু বোকা নই।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টন মোড়ে জামায়াতের ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহালসহ দলটির সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, দলটি এখনো সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক অবস্থানে রয়েছে। “ধৈর্যের পরীক্ষা নিবেন না” বলার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দলটি আপাতত সহনশীল আচরণ করছে, কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হলে তারা শক্ত অবস্থান নিতে পারে।
অন্যদিকে, “আমরা ভদ্র, কিন্তু বোকা নই”—এই কথাটি দলটির কৌশলগত অবস্থানের দিকেও ইঙ্গিত করে। তারা হয়তো সরাসরি সহিংস রাজনীতিতে যেতে চায় না, তবে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামী একসময় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ছিল। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে দলটি ক্ষমতায়ও ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধ বিচারের পর থেকে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো, জামায়াত নতুন করে কিভাবে রাজনৈতিক ময়দানে ফিরে আসতে চায়
বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত এখন কৌশলগতভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করছে। তারা প্রকাশ্যে বড় কোনো কর্মসূচি না দিয়ে, নীরবে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য সরকারের জন্য একটি বার্তা বহন করে। এটি স্পষ্ট যে, তারা আর চুপচাপ বসে থাকতে চায় না। তবে তারা সরাসরি সহিংস পথ না বেছে নিয়ে কৌশলীভাবে নিজেদের রাজনীতিতে সক্রিয় রাখতে চাইছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী একটি স্পর্শকাতর বিষয়। দলটি এখনো কৌশলীভাবে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করছে এবং রাজনৈতিকভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করছে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য এই ইঙ্গিতই দেয় যে, দলটি ধৈর্য ধরলেও, সুযোগ পেলে তারা আবার সক্রিয় ভূমিকায় ফিরে আসতে চায়। এখন দেখার বিষয়, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোয়।

জয় ও নিঝুম মজুমদারের এই আহ্বানকে দেশবিরোধী বলে মনে করেন ?