শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচয়পত্র (কার্ড) চালুর দাবি জানিয়েছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। তিনি বলেন, সব সরকার আমলেই শ্রমিকরা বঞ্চিত ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাই তাদের অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
শুক্রবার (১ মে) আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি প্রস্তাব করেন, শ্রমিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি কার্ড চালু করা হলে এর মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে তার দল আপসের রাজনীতি পরিহার করেছে। অন্য রাজনৈতিক শক্তিগুলো গোপন সমঝোতায় যুক্ত হলেও ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ রাজনীতি করেছে বলে দাবি করেন তিনি। ইসলামের জন্য ক্ষমতা ছাড়ার উদাহরণও তাদের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদে আবারও মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার বিতর্ক উত্থাপন জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের স্পষ্ট করতে হবে তারা শরিয়া ভিত্তিক শাসনব্যবস্থার পক্ষে নাকি প্রচলিত ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। তার দল ইসলামি শরিয়ার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থানে রয়েছে।
ফয়জুল করীমের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচন ছিল আপস ও ভাগাভাগির নির্বাচন, যার কারণে বিরোধী দলগুলো নিজেদের অবস্থান নির্ধারণে দ্বিধাগ্রস্ত। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তাদের দলকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
শিক্ষা খাতে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কওমি মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। পাশাপাশি দেশে নতুন করে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলে তা বন্ধের আহ্বান জানান।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, যার মধ্যে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহসহ অনেকে। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।