আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নির্বাচনী হলফনামায় দেশি সম্পদের পাশাপাশি বিদেশে থাকা সব ধরনের সম্পদের হিসাবও দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আবদুল মোমেন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সকালে দুদক সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বক্তব্য দেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণ আমরা চাইছি। সেখানে বিদেশি সম্পদের হিসাব না দিলে সেটি অন্যায় হবে। জনগণের জানার অধিকার আছে, একজন প্রার্থীর সম্পদ কোথায় এবং কতটুকু।” তিনি আরও জানান, যারাই অনউপার্জিত সম্পদের মালিক হবেন—তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান কমিশন কাজ করছে। তবে দুদকের সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষি জমি সংক্রান্ত তদন্তের কথা। ড. মোমেন বলেন, “২০০৮ সালে শেখ হাসিনার কৃষি সম্পত্তি হলফনামায় দেখানো ছিল ৫ দশমিক ২১ একর।
কিন্তু অনুসন্ধানে আমরা পাই ২৯ একর। তখন দুদক তদন্ত করলেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।”
তিনি বলেন, এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে দুদক যেন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে—সে লক্ষ্য নিয়ে নতুন কাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অনুসন্ধান পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।
নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ সক্রিয়তার বিষয়ে প্রশ্ন তুললে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন–সংক্রান্ত আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দুদকের দায়িত্বের অংশ।
অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার, বিভাগীয় কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় চালু হলে এ অঞ্চলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও তদন্ত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।