বাংলাদেশি কিছু পণ্যের ওপর ভারতের স্থলবন্দর আমদানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হলেও এটি বাংলাদেশের জন্য আত্মনির্ভরশীলতার দিকে অগ্রগতির একটি সম্ভাবনাময় মুহূর্ত।
বুধবার (২২ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে উপদেষ্টা লিখেন, “ব্যবসায়ীদের সাময়িক হয়তো কিছু ক্ষতি হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে আমরা মনে করি, এটি আমাদের আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ।” একই কথা তিনি বলেন সাভারের জাতীয় যুব ইনস্টিটিউটে যুব সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে।
সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে পোশাক, সুতা, প্লাস্টিক পণ্য, কনফেকশনারি এবং জুস ইত্যাদি পণ্য স্থলপথে আর প্রবেশ করতে পারবে না। এসব পণ্য এখন থেকে কেবল কলকাতা কিংবা মহারাষ্ট্রের নাভা শেভা সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাবে। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য তাৎক্ষণিক ধাক্কা হয়ে এলেও সরকারের দৃষ্টিতে এটি ঘরোয়া শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন এক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশকে নিজস্ব প্রযুক্তি, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজার সম্প্রসারণে বাধ্য করবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই করে তুলবে। অতীতে ভারতীয় নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশি পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয় উৎপাদনে যে বিকল্প সক্ষমতা গড়ে উঠেছিল, তা এখন অর্থনৈতিক উদাহরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
একইসঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ একটি ভিন্ন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে এখনো অপটিক্যাল ফাইবার পৌঁছেনি, সেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি লেখেন,
“দেশের প্রতিটি জনপদে ইন্টারনেট নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। স্টারলিংক এই বাস্তবায়নে সহায়ক হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল সংযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে এবং “Smart Bangladesh” ভিশনের আওতায় ২০২৫ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ ইন্টারনেট কাভারেজ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে স্টারলিংক সংযোগ এক নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের।
সামগ্রিকভাবে, বাণিজ্য নীতিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা—দুটি বিষয় নিয়েই উপদেষ্টার মন্তব্য বাংলাদেশের নতুন নীতিগত বাস্তবতা এবং কৌশলগত অভিযোজনকে সামনে এনে দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে কিভাবে এই সংকটকে সুযোগে রূপান্তর করতে পারে।