শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ভালোবাসা না অভিমান, কী বলে ইসলাম?

মান-অভিমান মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও এক ধরনের চাপ তৈরি করে। কখনো কখনো এই মান-অভিমান এমনভাবে পরিণত হয় যে, মানুষ তার প্রিয়জনের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়,পরস্পরে কথা বার্তা থেকেও দূরে থাকে, এমনকি একে অপরকে দেখা পর্যন্ত এড়িয়ে চলে। এ ধরনের মনোভাব ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে অশান্তি তৈরি করে। ইসলাম এই মানবিক আবেগকে গুরুত্ব […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২১:৫৪

মান-অভিমান মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, এমনকি কর্মক্ষেত্রেও এক ধরনের চাপ তৈরি করে। কখনো কখনো এই মান-অভিমান এমনভাবে পরিণত হয় যে, মানুষ তার প্রিয়জনের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়,পরস্পরে কথা বার্তা থেকেও দূরে থাকে, এমনকি একে অপরকে দেখা পর্যন্ত এড়িয়ে চলে। এ ধরনের মনোভাব ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে অশান্তি তৈরি করে।

ইসলাম এই মানবিক আবেগকে গুরুত্ব দেয়, তবে যখন এটা সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব ও অনীহা সৃষ্টি করে, তখন তা গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘কোনো মুসলমানের জন্য এটা বৈধ নয় যে সে তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৭৬)

এখানে তিন দিনের একটি সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষ তার রাগ, ক্ষোভ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার সময় পায়।

আবেগের উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ

হাদিসবিশারদরা বলছেন, এই তিন দিন সময় দেয়ার উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন তার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট না হয়। তবে যদি ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক জীবনে এভাবে কথা বন্ধ রাখা কোন নৈতিক বা শরিয়া ভিত্তিক কোনো কারণ না থাকে, তবে এটা পরিহার করা উচিত।

অভিমান যেন বিদ্বেষে পরিণত না হয়

অভিমান বা ক্ষোভের কারণে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হলে, তা যেন বিদ্বেষ বা শত্রুতা না সৃষ্টি করে। রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর দরবারে বান্দার আমল পেশ করা হয়।

আল্লাহ সকল মুসলিমকে ক্ষমা করে দেন, কিন্তু যাদের মধ্যে বিদ্বেষ থাকে, আল্লাহ তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেন না যতক্ষণ না তারা একে অপরকে ক্ষমা করে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৫)

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, কোনো কারণে অভিমান বা রাগ হলে তা যেন মনের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে না পারে।

হাসিমুখে কথা বলা ইসলামের আদর্শ

ইসলামে হাসিমুখে কথা বলাকে একটি সদকা বা আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা এবং তার পাত্রে পানি ভরে দেওয়াও তোমার জন্য সদকা।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৭০)

সম্পর্কচ্ছেদ মৃত্যুর মতো

সম্পর্ক ছিন্ন করা মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর এবং ইসলামে এটাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিষেধ করা হয়েছে। রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে তার ভাইয়ের সাথে এক বছর সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখে, সে যেন তাকে হত্যা করল।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৪৯১৫)

এই হাদিস আমাদের জানিয়ে দেয় যে, সম্পর্কের গুরুত্ব ও তার বিচ্ছেদের ক্ষতির ব্যাপারে নিজে অনুধাবন করা ও সতর্কতা অবলম্বন করা।

যে অভিমান ভাঙে, সে উত্তম

ইসলামের শিক্ষা হলো, যে ব্যক্তি অভিমান ভাঙতে এগিয়ে আসে, সে-ই উত্তম। রসুলুল্লাহ সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সাথে তিন দিন বা তার বেশি সময় সম্পর্ক ছিন্ন রাখে, এবং তারা একে অপরকে দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে চলে,যে অবশ্যই প্রথমে সালাম দেবে, সেই ব্যক্তি উত্তম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৭৭)

অর্থাৎ সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে আগে যারা একে অপরকে সালাম দেবে, তারা সত্যিকার অর্থে উত্তম।

দ্বিনের প্রশ্নে সম্পর্ক ছিন্ন করা বৈধ

এছাড়া, দ্বিন বা ধর্মীয় বিষয়ে কাউকে সতর্ক করার জন্য বা পাপের বিষয়ে সংশোধন করার জন্য সম্পর্ক কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা বৈধ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, রসুলুল্লাহ সা. তাবুক যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে পড়া তিন সাহাবির সঙ্গে ৫০ দিন কথা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।পরে তাদের তাওবা কবুল করে তাদের সাথে আবার সদ্ব্যবহার করা হয়। (আরিদাতুল আহওয়াজি, ৮/৯১)

ইসলাম মানুষের আবেগ ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কিন্তু তা যদি সম্পর্কের মধ্যে বিদ্বেষ বা বিচ্ছেদ তৈরি করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধ, যা কখনোই অভিমান বা ক্ষোভের কারণে দুর্বল হওয়া উচিত নয়। ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করলে, মানুষ একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে, সদাচারে শুভ সম্পর্ক বজায় রাখতে পারবে। ইনশাআল্লাহ ।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনকে ইসলামের আদর্শে আলোকিত করুন আমিন ।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।