সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

জান্নাতের খবরে কেন কাঁদলেন আবু বকর রা.?

হজরত আবু বকর রা., ইসলামের প্রথম খলিফা ও একজন অত্যন্ত বিশুদ্ধ আত্মার মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও ভয়াবহতা পোষণ করতেন। একদিন নামাজের সময় তিনি হঠাৎ কান্না করে উঠলেন। এই ঘটনা সাহাবিদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তুলে। নামাজ শেষে একজন সাহাবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু বকর! আপনি কেন কান্না করছেন? উত্তরে হজরত আবু […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৮:৪৯

হজরত আবু বকর রা., ইসলামের প্রথম খলিফা ও একজন অত্যন্ত বিশুদ্ধ আত্মার মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও ভয়াবহতা পোষণ করতেন। একদিন নামাজের সময় তিনি হঠাৎ কান্না করে উঠলেন। এই ঘটনা সাহাবিদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তুলে।

নামাজ শেষে একজন সাহাবী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু বকর! আপনি কেন কান্না করছেন? উত্তরে হজরত আবু বকর রা. বললেন, আমি কুরআনের এক আয়াত পড়ে কান্না করছি। সেই আয়াতটি ছিল, হে বান্দা, আমি তোমার জানমাল কিনে নিলাম। বিনিময়ে আমি তোমাকে জান্নাত দিয়ে দিলাম।(আত-তাওবা, আয়াত ১১১)

সাহাবিরা এই আয়াত শুনে অবাক হয়ে গেল। কারণ, এই আয়াতে জান্নাতের বড় খুশির খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু হজরত আবু বকর রা. কেন এতে কাঁদছেন?

হজরত আবু বকর রা. তখন তাঁদেরকে একটি গল্প বললেন। তিনি বললেন, আমার একটি কাপড়ের দোকান আছে। একদিন এক মহিলা আমার কাছ থেকে কাপড় কিনেছিলেন। অনেক দিন পর তিনি এসে কাপড়টি ফেরত দিয়ে বললেন, আপনার কাপড় আমার পছন্দ হয়নি। আপনি আমার টাকা ফেরত দিন। আমি তাকে টাকা ফেরত দিয়ে দিলাম।

তিনি আরো বললেন, এই আয়াত থেকে আমি ভেবেছি, যদি হাশরের দিন আল্লাহ আমাকে বলেন, হে আবু বকর, তোমার আমল ফেরত নাও এবং এর বিনিময়ে যে জান্নাত দিয়েছিলাম তা ফেরত দাও। কারণ তোমার ইবাদত আমার পছন্দ হয়নি।এ সময় আবু বক্কর রা. বলেন, তাহলে আমি কী বলব? সেদিন তো আমার কাছে আর কিছুই থাকবে না। বড় ক্ষতিগ্রস্ত হবো আমি। এ চিন্তা করেই আমি কান্না করছি।

হজরত আবু বকর রা. -এর এই কথা থেকে আমরা অনেক মূল্যবান শিক্ষা লাভ করতে পারি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, আমাদের হৃদয়কে ইমানের দৃঢ়তা ও আল্লাহর ভয় দ্বারা পরিপূর্ণ করতে হবে। আমাদের ইবাদত যেন শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে হয়। যদি আমরা আমাদের ইবাদত আল্লাহকে খুশি করার জন্য না করে, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করি, তবে তা কখনোই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।

কারণ,আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আমরা আল্লাহর কাছে দায়ী। আমরা যা কিছু করি, তার জন্য আমাদেরকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমরাদেরকে হজরত আবু বকর রা. এর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন ।

 

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।