ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত বিদায়ী অনুষ্ঠান ও র্যাগ ডে উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে এই আয়োজন শুরু হয়।অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চারটি ব্যাচ১১তম, ১২তম, ১৩তম ও ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা প্রফেসর শাহ আলম চৌধুরী। তিনি বলেন,র্যাগ ডে শিক্ষাজীবনের একটি আবেগঘন ও স্মৃতিময় দিন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম, সংগ্রাম ও সফলতার পর যখন বিদায় পর্বে পৌঁছায়, তখন এই দিনটি তাদের জন্য আনন্দ ও আবেগের মিলনমেলা হয়ে ওঠে। তবে আনন্দ যেন শৃঙ্খলার মধ্যে থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর সাজ্জাদ হোসেন বলেন,এটি কোনো বিদায় নয়, বরং নতুন জীবনের সূচনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষার্থীরা সমাজে নতুন উদ্যমে পদার্পণ করবে। র্যাগ ডে শুধু আনন্দের নয়, এটি দায়িত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ গঠনের প্রতীকও বটে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ফজলুল হক পলাশ বলেন,শিক্ষার্থীদের জীবনের আজকের এই দিনটি এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এটি শুধু বিদায়ের নয়, বরং নতুন দায়িত্ব ও সম্ভাবনার সূচনা। আমাদের প্রত্যাশা—এই শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তাদের জীবন ও সমাজে আলো ছড়াবে।
১৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মুজাহিদ আল রিফাত বলেন,দীর্ঘ চার বছরের পরিশ্রম, হাসি-কান্না ও স্মৃতি নিয়ে আজ আমরা বিদায় নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পাঠ নয়, আমাদের জীবনবোধ, বন্ধুত্ব ও দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে। র্যাগ ডে সেই সময়গুলোর এক আবেগময় সমাপ্তি।
১২ ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্ষা ইসলাম বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় আমরা অনেক কিছুই জানতাম না, এমনকি প্রেজেন্টেশন দেওয়াও না। কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছু শিখেছি। এই ক্যাম্পাস শুধু শিক্ষা নয়, মায়া, ভালোবাসা ও বন্ধনের এক প্রতীক হয়ে আছে। এই জায়গা ছাড়তে মন চায় না।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বিকেলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিদায়ী উৎসবের পর্দা নামে।