ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত প্যানেল ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’-এর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী আবু বাকের মজুমদার। তিনি মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, “শিক্ষার্থীরা যে রায় দেবেন, তা প্রার্থীদের মেনে নিতে হবে। আমরা আশা করছি, শিক্ষার্থীরা যোগ্য ব্যক্তিকে নেতৃত্বে আনবেন।”
বাকের জানান, ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা আনন্দময় পরিবেশ উপভোগ করেছেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোটের প্রতি উৎসাহ রয়েছে এবং তারা আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন। তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীরা যে রায় দেবে, সেটাই যৌক্তিক এবং সেটাই হবে। এর বাইরে কিছু হওয়ার সুযোগ নেই।”
প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। পাশাপাশি ১৮টি হলে ১৩টি পদে লড়ছেন মোট ১ হাজার ৩৫ প্রার্থী। ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস), ছাত্র অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আলাদা প্যানেল গঠন করেছে।
এবার ভোটার তালিকায় আছেন মোট ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন শিক্ষার্থী—এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে ৮১০টি বুথে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা আট ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলবে। প্রতিটি ভোটার ডাকসু ও হল সংসদের ৪১টি পদে ভোট দিতে পারবেন।
ভোট শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) মেশিনে। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে এলইডি স্ক্রিনে গণনার ফল দেখানো হবে। সবশেষে সিনেট ভবন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি, মোতায়েন করা হয়েছে ডগ স্কোয়াড, বোম্ব এক্সপোজাল ইউনিট, সোয়াত টিম, ডিবি, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স এবং সিসিটিভি মনিটরিং সেল।