বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

নতুন বছরে বুটেক্স শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা 

মোঃ আলী মোর্তজা, বুটেক্স প্রতিনিধি  নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ। অস্থিরতা ও পরিবর্তনের বছর ছিল ২০২৪। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ঘটনাবহুল বছরটিকে বিদায় জানিয়ে নতুন এক বছরে পা রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরাও এই নতুন বছরে নিজেদের প্রত্যাশা পুরণের সাথে সাথে নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত। বুটেক্সের তরুণ প্রজন্মের […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ জানুয়ারী ২০২৫, ১২:০৮

মোঃ আলী মোর্তজা, বুটেক্স প্রতিনিধি 
নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা, নতুন চ্যালেঞ্জ। অস্থিরতা ও পরিবর্তনের বছর ছিল ২০২৪। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ নানা ঘটনাবহুল বছরটিকে বিদায় জানিয়ে নতুন এক বছরে পা রেখেছে শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরাও এই নতুন বছরে নিজেদের প্রত্যাশা পুরণের সাথে সাথে নিজের জীবনকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত।
বুটেক্সের তরুণ প্রজন্মের মনে নতুন বছরের সঙ্গে নতুন স্বপ্নের সঞ্চার হয়েছে। তারা নিজেদের ক্ষমতা ও জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। টেক্সটাইল শিল্পকে আরও উন্নত করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায় এই তরুণ প্রজন্ম।
বুটেক্সের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে আমারা জানতে পেরেছি নতুন বছরে তাদের প্রত্যাশার কথা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোঃ সাগর হোসেন বলেন, ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পরে দেশের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো যেনো তার নতুন সজীবতা ফিরে পেয়েছে নতুন উদ্যমে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-ও এর বাইরে নয়। এবং একজন শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম চাওয়া, বুটেক্স পরিপূর্ণ রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে  বিরাজমান থাকবে। হলের মান উন্নয়ন, ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধিকরণ, খাবারের মান উন্নয়ন কারাসহ নানা কাজ করা হবে। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ এই দিকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করবেন। নতুন একটি হল করার প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে আমাদের, প্রত্যাশা করি তা যেনো নির্দিষ্ট সময়ে সেটা বাস্তবায়িত হয়।
এছাড়া, হলগুলোতে শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক এবং ছাত্র শিক্ষকের যে মিলবন্ধন তা অটুট থাকুক। সামনের বছরে আমাদের ৪৬তম ব্যাচের বিদায়ে ২০২৪ এর মতো ফেস্ট উদযাপিত হবার প্রত্যাশা রাখি। তাছাড়া সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস চাই। ৪৬ তম ব্যাচ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যে ৫ বছর ধরে অধ্যয়নরত বুটেক্স ক্যাম্পাসে। আমাদের এইচএসসি সেশনের (২০১৯-২০) বন্ধুবান্ধব অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করেছে অথবা প্রায় শেষের পথে। আমাদের যেনো দ্রুতসময়ে স্নাতক শেষ করার ব্যবস্থা করা হয় সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দৃষ্টি আশা করতেছি। সর্বশেষে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটুক ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে। সার্বিক নিরাপত্তায়, বহিরাগতদের যেনো ক্যাম্পাস ও হলে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয়। সর্বোপরি বুটেক্স একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস হোক আমাদের জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুল হক রাইহান বলেন, আমার স্বপ্নের বুটেক্স হবে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে জ্ঞানের গভীরতা, নৈতিক মূল্যবোধ, এবং ভবিষ্যতের প্রস্তুতি মিলেমিশে এক নতুন পথ তৈরি করবে। এজন্য নিজের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক প্রসূত কিছু প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করতে পারি যা বাস্তবায়ন করলে হয়তোবা নতুন বছরের বুটেক্স সবার স্বপ্নের বুটেক্স হতেও পারে:
১। গবেষণার শক্ত ভিত্তি প্রতিস্থাপন: বুটেক্সকে তার গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে গবেষণাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে। টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের গবেষণা হবে বিশ্বমানের।
২। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ ২.০ এর অনন্য পরিচিতি প্রতিষ্ঠা: বুটেক্সকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত করতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব ও গবেষণা বিনিময়ের প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক কনফারেন্স আয়োজন, বিশ্বমানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী আনয়ন, বৈদেশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি, এবং বৈশ্বিক ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বুটেক্সকে বিশ্বের মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপন করতে হবে।
৩। পারিপার্শ্বিক গণ্ডি প্রসার: বুটেক্সের গণ্ডি শুধু একাডেমিক ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অবকাঠামোর দ্রুত ও স্থায়ী প্রসারসহ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগ দেওয়া, এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বুটেক্সকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।
৪। উদ্ভাবন ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণ: বুটেক্সের প্রতিটি কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হোক, যেখানে উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটে। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের সৃজনশীলতাকে কেবল পেশাগত জীবনে নয়, বরং মানবিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে পারে।
যেদিন বুটেক্স এই নবজাগরণের পথে এগিয়ে যাবে, সেদিনই হবে বুটেক্সের প্রকৃত নতুন বছর। এ যাত্রার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বুটেক্সের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন কথা বলে—উন্নয়ন, উদ্ভাবন, এবং নেতৃত্বের গল্প।
 বুটেক্স, এখন সময় এগিয়ে যাওয়ার, সময় নতুন ভবিষ্যতের দিগন্ত উন্মোচনের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, ২০২৪এ বুটেক্স অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে, সম্মুখীন হয়েছে বহু প্রতিকূলতার পাশাপাশি এনেছে বেশ কিছু সম্ভাবনাময় পরিবর্তন। আশা করছি ২০২৫ এর বুটেক্স এক নতুন উদ্যমে তার যাত্রা শুরু করবে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রত্যাশা থাকে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর। যেখানে আমরা দেখতে পেরেছি, বুটেক্স তার অধিকাংশই নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। নিরাপত্তাজনিত দুর্বলতা, উপযুক্ত গবেষণার পরিবেশ না থাকা, শিক্ষক এবং ক্লাসরুম সংকট, ফলাফল পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশন না থাকা ইত্যাদি বহু বছর ধরে চলমান সমস্যা। আশা করছি নতুন বছরে বুটেক্স প্রশাসন উক্ত সমস্যাগুলো আমলে নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও তাদের সর্বোচ্চ প্র‍য়াস করবে যাতে সম্মিলিত উদ্যগে বুটেক্স সংস্কারের কাজ করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নাঈম বলেন, নতুন বছরের বুটেক্স শিক্ষার্থী হিসেবে, আমার নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রত্যাশাগুলো:
প্রথমত, গুণগত মানের শিক্ষা। আমি আশা করি, এখানে এমন একটি শিক্ষার পরিবেশ পাব যেখানে শুধুমাত্র পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান শেখানো হবে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যেকটি বিষয়কে গভীরভাবে বোঝার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ চাই।
দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন। আমি চাই আমাদের ল্যাবগুলো আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত হোক, যাতে আমরা শিল্পখাতে ব্যবহৃত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারি এবং তা প্রয়োগ করতে শিখি।
তৃতীয়ত, ক্যাম্পাসের পরিবেশ। শিক্ষাজীবন উপভোগ্য করতে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস পরিবেশ অপরিহার্য। পাশাপাশি আবাসন ব্যবস্থা, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত হওয়া উচিত।
অবশেষে, আত্মোন্নয়ন ও নেতৃস্থানীয় দক্ষতা অর্জন। আমি আশা করি, বুটেক্স আমাকে শুধু একজন দক্ষ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নয়, একজন দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল নেতা হিসেবে গড়ে তুলবে।
আমার এই প্রত্যাশাগুলো শুধু আমার স্বপ্ন নয়, বরং আমি বিশ্বাস করি, এগুলো অর্জনের মধ্য দিয়েই আমি বুটেক্সের গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করতে পারব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইজ অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং  বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ আবির আহমেদ অনি বলেন, নতুন বছরের সূচনা আমাদের প্রত্যেকের জন্য নতুন আশা, নতুন পরিকল্পনা এবং নতুন উদ্যম নিয়ে আসে। আমরা যারা বুটেক্সের শিক্ষার্থী, আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এখানে কাটছে। আমরা প্রত্যাশা করি একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা। বিশ্ব যখন প্রযুক্তির অগ্রগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন আমাদের শিক্ষাক্রমেও সেই উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া দরকার। আমরা চাই, এমন একটি পরিবেশ যেখানে গবেষণার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হবে। আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুযোগ-সুবিধাগুলো আরও উন্নত হোক। নতুন ল্যাব, লাইব্রেরি, এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও প্রগতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের প্রত্যাশার অন্যতম অংশ। যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
বিষয়ঃ

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।