সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ চায় তরুণরা

আবু তাহের, জাককানইবি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে প্রতিবছর নতুন করে গুরুত্ব পায় দিনটি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে জাতীয় […]

গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ চায় তরুণরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মে ২০২৬, ১৪:২১

আবু তাহের, জাককানইবি

শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে প্রতিবছর নতুন করে গুরুত্ব পায় দিনটি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী ভাবনা ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা নিয়ে তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম। তবে বাস্তবতায় রাজনৈতিক চাপ, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব এবং সরকারঘনিষ্ঠ এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা তার নিরপেক্ষতা হারায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশী পোদ্দার আরোহী বলেন, ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এমন গণমাধ্যম চাই, যা সত্য প্রকাশে সাহসী, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় এবং মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক হবে। গণমাধ্যম এমন একটি শক্তি, যা সমাজকে সচেতন করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। তাই আমি চাই সংবাদমাধ্যম সব ধরনের চাপ, ভয় ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশ করুক।

আমি চাই গণমাধ্যমে তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে উঠে আসুক। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাফল্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা, কর্মসংস্থানের সংকট, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি করে আলোচনা হোক।

কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, আর তাদের ভাবনা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম হবে না বরং এটি হবে সত্য, সচেতনতা ও পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক। যে গণমাধ্যম সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নেবে, মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা ইতি বলেন, ‘বিপ্লবোত্তর সংবাদপত্রের নবদিগন্ত: স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার সন্ধানে ​৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের ভয়ের সংস্কৃতি ও ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ এর শৃঙ্খল ভেঙে সাংবাদিকতা আজ যেন মুক্ত বাতাসের স্বাদ পেয়েছে।

বর্তমানে গণমাধ্যমে যে বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনা করার অকুতোভয় সাহস আমরা দেখছি, তা একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তবে এই স্বাধীনতার পিঠে চড়ে আসা ছদ্মবেশী ‘গুজব’ এবং তথ্যের বিকৃতি সমাজকে বিভ্রান্তির কানাগলিতে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

​বিগত সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা কেবল সরকারদলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যা পেশাদারিত্বের চরম অবক্ষয়। বর্তমানে সেই পক্ষপাতদুষ্ট ধারা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ মিললেও, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

প্রকৃতপক্ষে, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঢাল হবে না, বরং তা হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের স্বচ্ছ দর্পণ। ভবিষ্যতের কাম্য গণমাধ্যম হবে এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংবাদ প্রকাশের অদম্য সাহসের সাথে মিশে থাকবে বস্তুনিষ্ঠার গভীর দায়বদ্ধতা। তথ্য যাচাইয়ের কঠোর মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকরা যখন কেবল সত্যের প্রতি অনুগত থাকবেন, তখনই মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সুসংহত হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠিত হবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জায়েদ আহাম্মদ বলেন, ‘আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, এই দিনটি শুধু উদ্‌যাপনের নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের দর্পণ যেখানে সত্য, ন্যায় ও জনগণের কণ্ঠ প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে।

বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যা কোনো ধরনের সরকারি বা ক্ষমতাসীন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে সত্য প্রকাশে সাহসী ভূমিকা রাখবে।

জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে, তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যমের আকাঙ্ক্ষা। জনগণ এখন এমন সংবাদ চায়, যা তাদের বাস্তবতা তুলে ধরে, বিভ্রান্তি নয় বরং সচেতনতা সৃষ্টি করে।

দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সময়ে কুতথ্য, অপতথ্য ও যাচাইবিহীন সংবাদের প্রবণতা বেড়েছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড অটুট রাখা।

স্বাধীন বাংলাদেশে এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম শুধু প্রয়োজনই নয়, বরং একটি সুস্থ গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে আমরা এমন একটি গণমাধ্যম প্রত্যাশা করি, যা সত্যের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবে।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যা সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরবে, কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা গোষ্ঠীগত চাপের কাছে মাথা নত করবে না। যেখানে সাংবাদিকতা হবে দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে, কেবলমাত্র চটকদার খবরের জন্য নয়।

আমি চাই, গণমাধ্যম মানুষের কণ্ঠস্বর হোক-বিশেষ করে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরুক। সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা হবে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর। ভুয়া খবর, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত একটি স্বচ্ছ মাধ্যম চাই।

গণমাধ্যম যেন ক্ষমতার মুখপাত্র না হয়ে, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। সাংবাদিকরা যেন নিরাপদে কাজ করতে পারেন, ভয় বা হুমকির মধ্যে নয়। আমি এমন মিডিয়া চাই, যা মানুষকে সচেতন করবে, বিভক্ত নয়-ঐক্যবদ্ধ করবে।

যেখানে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও মানবকল্যাণমুখী গণমাধ্যমই আমার প্রত্যাশা।’

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।