আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির ভেতরে উত্তেজনা বাড়ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনকে দলীয় মনোনয়ন ‘ধানের শীষ’ প্রতীক না দিলে গণপদত্যাগের হুমকি দিয়েছে দশমিনা উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিশেষ বর্ধিত সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলীম তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
বর্ধিত সভায় উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. রাজিব মিয়া বলেন, সভায় উপস্থিত প্রায় সব বক্তাই হাসান মামুনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। নেতাকর্মীরা স্পষ্ট করে বলেন, তাকে ধানের শীষ প্রতীক না দিলে শত শত নেতাকর্মী দল থেকে পদত্যাগ করে হাসান মামুনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহ আলম শানু সিকদার জানান, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হাসান মামুনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলে হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন এবং এ ক্ষেত্রে নেতাকর্মীরা তার পাশেই থাকবেন।
এ বিষয়ে হাসান মামুন মুঠোফোনে বলেন, “দশমিনা–গলাচিপা বিএনপির নেতাকর্মীরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি তাদের সঙ্গেই থাকবো। তারা যদি আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করতে চান, সে জন্য যত নির্যাতন বা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় আমি প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “গত ২৫ বছর ধরে আমি দশমিনা–গলাচিপার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।”
উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পটুয়াখালী-৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরকে ঘোষণা দেন।
এর আগে, গত ২২ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের কার্যালয় থেকে হাসান মামুনের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।