দীর্ঘ ১৮ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে সারাদেশে আবেগের জোয়ার বইছে। সেই আবেগেরই ব্যতিক্রমী প্রকাশ ঘটিয়েছেন ভোলার এক শ্রমিক দল নেতা। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে ভোলা থেকে সড়ক পথে সাইকেল চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন শ্রমিক দল নেতা আব্বাস মিয়াজি।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা প্রেস ক্লাব ভবনের সামনে থেকে তার এই প্রতীকী ও সাহসী যাত্রা শুরু হয়। ধানের শীষের প্রতীক দিয়ে মোড়ানো পোশাক পরে, সাইকেলে চড়ে ঢাকার পথে পা বাড়ান তিনি।
আব্বাস মিয়াজি ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি। পেশায় তিনি একজন ট্রাকচালক। দলের প্রতি এবং তারেক রহমানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই এই ব্যতিক্রমী সাইকেল যাত্রা বেছে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
তার পায়ে চালিত সাইকেলের সামনে ও পেছনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা লাগানো রয়েছে। সামনে ঝুলছে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত একটি ফেস্টুন। সেখানে লেখা—‘নেত্রী আমার খালেদা জিয়া, নেতা আমার তারেক ভাই, তাকে আমি বরণ করতে ভোলা থেকে ঢাকা যাই’। পুরো শরীর জুড়েই আঁকা ধানের শীষ—যেন নিজেকেই তিনি দলীয় প্রতীকে রূপ দিয়েছেন।
আব্বাস মিয়াজি বলেন, তার বাবা বিএনপির রাজনীতি করতেন। সেই ধারাবাহিকতায় ছোটবেলা থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ১৬ বছর মামলা-হামলা আর ভয়ভীতির মধ্যেও দলের সব আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভয়ে অনেক সময় গোপনে কর্মসূচিতে যেতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। এই কারণে তার বিরুদ্ধে সাতটি মিথ্যা মামলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি এখনো চলমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে ভয়কে সঙ্গী করেই রাজনীতি করতে হয়েছে। এখন সেই ভয়কে জয় করতেই এই সাইকেল যাত্রা। ভোলা থেকে প্রায় দুই শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে যদি প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে পারি, তাহলেই সব কষ্ট সার্থক হবে।
তার এই যাত্রাকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভালোবাসা, ত্যাগ আর রাজনৈতিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখছেন। অনেকেই বলছেন, আব্বাস মিয়াজির এই সাইকেল যাত্রা শুধু একজন নেতাকে বরণ নয়—এটি দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ কর্মীর নীরব প্রতিবাদও।