সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই–শাল্লা) আসনে নির্বাচনি উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই এ আসনে ভোটের লড়াই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন জামায়াত প্রার্থী, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির—যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গ্রাম, বাজার ও উঠান বৈঠকে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করেছেন। তরুণসহ সব বয়সী ভোটারের মধ্যে তিনি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।
নাসির উদ্দিন চৌধুরী সম্প্রতি শিশির মনিরকে ‘রাজাকারের ছেলে’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, “চা-বিস্কুট খাওয়ানো আর এলাকার ঢংতামাশা করে ভোট পাওয়া কঠিন।” এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই তা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশির মনিরের মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় তিনি অত্যন্ত সংযম ও ভদ্রতার সঙ্গে জবাব দেন।
ভিডিওতে শিশির মনির বলেন, “মনোনয়ন পাওয়ার পর আমি নাসির উদ্দিন চৌধুরী ভাইকে অভিনন্দন জানিয়েছি এবং তার সুস্থতা কামনা করেছি। প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু অসম্মান বা কটাক্ষ নয়—আমি সর্বদা সম্মানের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। আমরা একে অপরের কাছ থেকে শিখব। এলাকার মানুষের কল্যাণই সবচেয়ে বড় বিষয়।” তিনি আরও বলেন, “আমি গালাগালি নয়, গলাগলি চাই। নিরবতাই বড় শক্তি—আমি সমালোচনায় যেতে চাই না।”
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, সুনামগঞ্জ-২ আসনে ভোটাররা এখন নতুন ধরণের রাজনীতি দেখতে চাইছেন—যেখানে কাদা ছোড়াছুড়ির বদলে প্রার্থী উপস্থাপন করবেন তাদের নীতি, পরিকল্পনা ও উন্নয়নভিশন। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি রেজাউল ইসলাম বলেন, “আমরা ভেদাভেদ নয়, সম্মানের রাজনীতি চাই। দেশের মানুষও পুরোনো রাজনীতির ধারা আর চায় না।”
শিশির মনিরের শালীন ও সংযত প্রতিক্রিয়া স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সচেতন মহলের মতে, ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে সৌজন্যপূর্ণ ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক আচরণ এই আসনের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।