মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার জামালদী বাস স্ট্যান্ড এলাকাকে কেন্দ্র করে এ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন এবং একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ-৩ (সদর–গজারিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামানকে মনোনীত করে দল। কিন্তু একই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ। তাঁর সমর্থকেরা এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিলের আয়োজন করেন।
সন্ধ্যার আগেই মহিউদ্দিনপন্থীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিতে থাকলে একই সময় কামরুজ্জামানপন্থীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। দুই পক্ষের শোভাযাত্রা মুখোমুখি হলে উত্তেজনা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ। এতে স্থানীয়ভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের গাড়ি ভাঙচুর হয়।
আহতদের মধ্যে স্বাধীন (২৪), মো. সাইদুল (২৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৯), সাহিদা বেগম (৫৫), জাকির হোসেন (৪০) ও সিহাদ (১৭) পরিচিতি পাওয়া গেছে। আহতরা মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থক বলে জানানো হয়েছে।
হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আশরাফ হোসেন রাজু বলেন, দুইজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন স্বাধীন—যার দুটি হাত ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাদিম মাহমুদ অভিযোগ করেন, “আমরা সংঘর্ষ এড়াতে একটি ভবনের ছাদে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানে প্রতিপক্ষের লোকজন এসে পিস্তল তাক করে গুলি চালায় এবং ককটেল ছোড়ে। এতে আমাদের পাঁচজন আহত হন।”
অন্যদিকে কামরুজ্জামানপন্থী নেতা মাসুদ ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কামরুজ্জামানের মনোনয়ন পাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দ ছিল। তিনি দাবি করেন, সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের দোসরদের প্রতিহত করতেই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
দলীয় প্রার্থী কামরুজ্জামান বলেন, তিনি ঢাকায় থাকায় ঘটনাটি পুরোপুরি জানা নেই। তবে দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আল আজাদ জানান, একটি গাড়ি ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে দুইজনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত টহল দিচ্ছেন। তিনি নিশ্চিত করেন, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।