বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নরসিংদীতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

কিছুদিন পরেই মুসলিম উম্মাহর সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। নতুন পোশাক ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীর মার্কেট গুলোতে ও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদকে সামনে রেখে সকল শ্রেনী পেশার মানুষেরা ব্যস্ত নিজেদের ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। নরসিংদী শহরের প্রতিটি মার্কেটের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় আর কেনাকাটার হিড়িক।  নরসিংদী শহরের বিভিন্ন […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৫, ০০:৫৫

কিছুদিন পরেই মুসলিম উম্মাহর সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ উল ফিতর। নতুন পোশাক ঈদ আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুন। সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীর মার্কেট গুলোতে ও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা।

ঈদকে সামনে রেখে সকল শ্রেনী পেশার মানুষেরা ব্যস্ত নিজেদের ঈদের কেনাকাটা নিয়ে। নরসিংদী শহরের প্রতিটি মার্কেটের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় আর কেনাকাটার হিড়িক। 

নরসিংদী শহরের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট, ব্রান্ডের আউটলেট ও দোকান গুলো ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই বাহারি ডিজাইনের নতুন নতুন সব পোশাকের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে মালিকেরা।

প্রতিট দোকানেই ক্রেতা সমাগম অনেক আশাব্যঞ্জক। বিক্রয় কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শন ও বিক্রিতে।

ক্রেতারা ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজদের পছন্দের পোশাক কিনতে। তীব্র গরমের ভ্যাপসা উত্তাপেও থেমে নেই ক্রেতা সাধারনে কেনাকাটার আগ্রহ। 

পাঞ্জাবি, শার্ট, টি শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া , প্যান্ট জুতা সহ সকল ধরনের পোশাকেই ছেয়ে আছে শপিংমল ও বিপণিবিতানগুলো। এছাড়াও মহিলাদের পোশাকের মধ্যে থ্রি পিস, বোরকা, লেহেঙ্গা, হিজাব, স্কাপসহ, চুরি, কসমেটিকস সহ বিভিন্ন সামগ্রী সব ধরনের কাপড়ই ক্রেতারা কিনছেন।

কেনাকাটায় শাড়ি বেচাকেনা থেমে নেই একদম। বিভিন্ন ধরনের শাড়ি কিনছেন ক্রেতারা।

নরসিংদীর সবচাইতে বড় শপিংমল ইনডেক্স প্লাজায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেনাকাটা করতে কেউ আসছেন একা আবার অনেকেই আসছেন পরিবার নিয়ে আবার বন্ধু বান্ধবী মিলে দল বেধে কেনাকাটা করতে আসছেন অনেকে।

বিভিন্ন দোকানে এবার আগের তুলনায় ক্রেতা সমাগম অনেক বেশী। সব দামের মুল্যের পোশাক পাওয়া যায় বলে ধনী, গরীব সকল শ্রেণী পেশার ক্রেতারাই এই শপিং মলে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। 

এই মার্কেটের স্বপ্ন বাংলা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আনিস আফজাল সময়ের কন্ঠস্বরকে জানান, আলহামদুলিল্লাহ শেষ সময়ে এসে ক্রেতা সমাগম অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন ই ভাল পরিমান বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন আয়ের ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে দামী, একটু কম দামী সব ধরনের পোশাক ই এবার তুলেছি। প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাকের কালেকশন ঢাকা থেকে আনা হয়। তাই এবার ঈদের বিক্রি ইনশাআল্লাহ আরও ভাল হবে বলে আশাবাদী। 

নতুন শপিংমল জামান নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, মলটি নতুন হলেও বিপনিবিতান গুলো ঈদকে সামনে রেখে বাহারি ডিজাইনের পোশাক ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সাজিয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে।

ক্রেতাদের সমাগম ও অনেক বেশী। নতুন মার্কেটে ক্রেতারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর খুঁজছেন তাদের পছন্দের জিনিস গুলো।

এই শপিং কমপ্লেক্সের দুইটি বিপণিবিতানের বিক্রয়কর্মী আমজাদ হোসেন, রনি ভূইয়া জানান, বেশীরভাগ ক্রেতা ই তৈরি পোশাক ব্যবহার করে থাকেন।

কিন্তু ঈদ সন্নিকটে হাতে সময় নেই তাই গার্মেন্টেসের তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের ও ভাল কোয়ালিটির পোশাক দিয়েই সাজানো হয়েছে এই মার্কেটের বিভিন্ন দোকান গুলো। এ কারণে রেডিমেড পোশাকের দোকানগুলোয় এই মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে বেচা-বিক্রি।

এবার মেয়েদের পছন্দে বাদ যায়নি বাহারি ডিজাইনের শাড়ি এবং ছেলেদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট। পাশাপাশি দেশীয় কাপড়ের কদরও রয়েছে বেশ।

মেয়েদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত শহরের বড় বাজারে অবস্থিত কালি বাজার মার্কেট সহ বিভিন্ন বিপনি-বিতান গুলো। এখানে শাড়ি, থ্রী পিস, বিভিন্ন জামা ও গজ কাপড় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা।

দেখা যায় বিভিন্ন বয়সের নারীদের দেখা যায় পোশাক কিনায় ব্যস্ত, কেউ পছন্দের পোশাক খুঁজছেন, কেউ দাম দর করায় ব্যস্ত, অনেকে পছন্দের পোশাক কিনে বাড়ি ফিরছেন। 

কেনাকাটা করতে আসা সামিয়া, রিয়া, মুনতাহা সহ কয়েকজন সময়ের কণ্ঠস্বর কে জানান, রোজার ক্লান্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ঈদের পোশাক নিয়ে ঘরে ফেরার একটি অন্যরকম আনন্দ আছে। এবারের ঈদে নতুন ডিজাইনের বিভিন্ন পোশাকের সমাহার রয়েছে এই মার্কেটে।

তাই নারীরা এই মার্কেটে কাপড় কিনতে ভীড় করে বেশী। প্রতিবারের মত এবার ও ঈদ কে সামনে রেখে সবাই ফ্যাশনের মধ্যে নতুনত্ব খুঁজছে। ইন্ডিয়ান ও দেশে তৈরী ভাল মানের শাড়ি ও থ্রী পিস পাওয়া যায় এখানের বিপণিবিতানগুলোতে।

এইবার পাকিস্তানি অনেক কালেকশন পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেকেই শাড়ি কিনছেন। দাম ও মানের ক্ষেত্রে এখানে কেনাকাটায় প্রশান্তি পাওয়া যায়। তবে গত বছরের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম একটু বেশী। 

এদিকে শহরের সিএনবি রোডের ফুটপাতের দোকান ও ছোট ছোট কাপড়ের দোকান গুলোতে কেনাকাটা করতে দেখা যায় নিম্ন আয়ের মানুষজনের। নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের সীমিত আয়ের মধ্যে সাধ্যমত কেনাকাটা করে পরিবার পরিজনের জন্য ঈদ আনন্দ বাড়ানোর চেস্টায় ব্যস্ত।

এসব মার্কেট গুলোতে ও ক্রেতাদের ভীড় লক্ষনীয়। এসব মার্কেটের বিক্রেতারা নিম্ন আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সাশ্রয়ী দামে বাহারি ডিজাইনের পোশাক দিয়ে সাজিয়েছেন তাদের দোকান।

এছাড়াও শহরের জামান শপিং কমপ্লেক্স, ইসলাম প্লজা, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত নরসিংদী প্লাজা, স্টেশন মার্কেট সহ সবগুলো শপিং মলেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়।

বিভিন্ন ব্রান্ডের শো-রুম যেমন ইজি ফ্যাশন, বন্ড, রিচম্যান, দর্জিবাড়ি, বার্গো, সেইলর সহ প্রতিটি শো-রুমেই কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে বিক্রি। ঈদ কেনাকাটায় যেন নতুন রঙ লেগেছে প্রতিটি বিপণিবতানে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।