বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুরে ঈদের কেনাকাটা জমজমাট

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ মেহেরপুরের গাংনীর বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদকে উপভোগ্য করে তোলার হাজার আয়োজন। অভিযাত বিপনী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানেই ব্যস্ততা। হাজার কোলাহল পেরিয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য মানানসই পোশাকটি খুঁজে বের করার কী আপ্রাণ চেষ্টা, যেন ঝিনুক সেচে মুক্তার খোঁজ। বাঙালী ললনাদের ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ শাড়ি ছাড়াও তারা কিনছেন সালোয়ার […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:১৪

মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ

মেহেরপুরের গাংনীর বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদকে উপভোগ্য করে তোলার হাজার আয়োজন। অভিযাত বিপনী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানেই ব্যস্ততা।

হাজার কোলাহল পেরিয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য মানানসই পোশাকটি খুঁজে বের করার কী আপ্রাণ চেষ্টা, যেন ঝিনুক সেচে মুক্তার খোঁজ। বাঙালী ললনাদের ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ শাড়ি ছাড়াও তারা কিনছেন সালোয়ার কামিজ।

ছেলেরা ঈদবাজারে জুতসই পাঞ্জাবি কিনছেন। তবে গরমে ঈদ হওয়ায় ছেলে মেয়েরা সবাই সূতি কাপড়ের প্রতি আগ্রহী।

উপজেলার বিভিন্ন অভিজাত বিপনী বিতান শপিংমল এমনকি ফুটপাত উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে দুপুর ও বিকেল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত রূপ নেয় ক্রেতা ও দর্শনার্থী সমুদ্রে। উদ্দেশ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য নতুন পোশাক এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ কেনা।

গেল বছরের তুলনায় একটু দাম বেশি বলেও দাবী ক্রেতাদের। ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে দরকসাকসির শেষে বাড়ি ফেরার পথে সবার হাতেই থাকছে এক বা একাধিক নতুন কাপড়ে ভরা ব্যাগ।

শাড়ী ছাড়া বাঙ্গালী নারীর কোন অনুষ্ঠানই যেন বেমানান। সেই শাড়ীর সাথে রয়েছে নারীদের নাড়ীর টান বাঙ্গালীয়ানা। সেই টানেই তারা ছুটে চলেছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে শাড়ী কিনতে। দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাতান, বালিচুরি, রাজশাহী সিল্ক।

পাবনার তাঁতের শাড়ি যেমন নারীদের মন কাড়ছে তেমনি টাঙ্গাইলের গ্রামীণ চেকও নারীদের মন মাতিয়ে তুলেছে।

তুলনা মূলকভাবে শাড়ীর দাম নাগালের মধ্যে। এবারে গরমকালে ঈদ। তাই সকলে সূতী কাপড়ে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন কাজল বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান কাজল ও বম্বের আলাউদ্দীন।

সুইয়ের ফোঁড়ে লুকিয়ে থাকা সুন্দর কারুকাজের পাঞ্জাবি আর সাদামাটা নকশার ও ঝাকঝকহীন কারুকাজের পাঞ্জাবির সঙ্গেও মিলিয়ে অনেক ক্রেতা কিনছেন পছন্দসই কটি। শর্ট পাঞ্জাবিও বিক্রি হচ্ছে তবে তুলনামূলক কম।

পাঞ্জাবির কলার, হাতা বা বুকের সামনে আছে নানা ধরনের নকশা। লম্বা পাঞ্জাবিতে কলার ও বুকের দিকে থাকছে পুঁতি বা সুতার কাজ। আছে লম্বা, সেমিলম্বা, শর্ট, ঢিলেঢালা, আঁটসাঁট পাঞ্জাবি। 

জামান গার্মেন্ট্স এর মালিক জামান জানান, পাঞ্জাবী ছাড়াও একটু রূচীশীল ক্রেতারা কিনছেন কারুকাজ খচিত ফতুয়া। দামও সাধ এবং সাধ্যের নাগালে। বিভিন্ন দোকানে প্রকার ভেদে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকায়।

ফতুয়ায় আছে নতুনত্বের ছোঁয়া। জুড়ে দেয়া আছে বাড়তি পকেট। এসব ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। 

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সুতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। বিাভিন্ন দোকান ঘুরে দোকানী ও ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভারতীয় কাপড়ে জরি, সুতা, পুঁথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ।

সূতি পোশাকের চাহিদাটা একটু বেশি। এ চাহিদা বেশি থাকার কারণ মূলত গরম। এছাড়া গরমে হালকা রঙের প্রাধান্য থাকলেও উৎসবের কারণে গাঢ় রঙের পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশ।

গাড়াডোব গ্রামের গৃহবধু সানজিদা জানান, পরি, পাকিস্তানি, সারারা, গারারা, প্রজাপতিসহ নানা ডিজাইনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। কাজ ভেদে এসব পোশাকের দাম পড়ছে আড়াই হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। আরো বেশি দামের পোশাকও আছে।

দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্রেতারা জানান, গেল ঈদের চেয়ে এবার পোশাকের দাম একটু বেশি। তারপরও কাঙ্খিত অনুসঙ্গ কিনতে পেরে তারা খুশি বলে জানালেন গাংনীর সেনা সদস্য হাসান। 

এদিকে পোশাকের সাথে মিলিয়ে জুতা আর হাল্কা প্রসাধনী কেনার পালা। স্বল্প দামে টেকসই পাদুকাটা চাচ্ছেন তারা। তবে মেয়েদের একটু বাড়তি কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী। সাজু গুজু করে মনটা রাঙানোর পাশাপাশি হাতটা রাঙাতে হবে। তাই মেহেদী কেনারও ধুম পড়েছে তাদের।

বিভিন্ন কোম্পানীর তৈরী মেহেদী বাজারে পাওয়া গেলেও বেশী বিক্রি হচ্ছে রাঙাপরী। সাথে থাকা স্বামী ভাই বন্ধু বা প্রেমিকের পকেট ফাঁকা হলেও মেয়েদের সেদিকে যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ছেলেরাও সম্মান বাঁচাতে মুখে যেন কুলুপ এঁটেছেন। 

মধ্য ও নিম্ন বিত্তদের ভরসার স্থান ফুটপাথের বাজারও বেশ জমজমাট। নি¤œ আয়ের ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। কি নেই এখানে? অভিজাত বিপণিতে যা পাওয়া যায় ঠিক একই ধরনের অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে এখানে।

কয়েকজন জানালেন, ফুটপাথে সালোয়ার কামিজ ও বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। শার্ট ও গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য অনুষঙ্গের তুলনায় কম।

গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, ক্রেতা বিক্রেতাদের নির্বিঘœ কেনা কাটা ও বাড়তি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুরঃ ১৭-০৩-২৫ ইং।

মেহেরপুরের গাংনীর বিভিন্ন মার্কেটে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদকে উপভোগ্য করে তোলার হাজার আয়োজন। অভিযাত বিপনী বিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত, সবখানেই ব্যস্ততা।

হাজার কোলাহল পেরিয়ে প্রিয় মানুষটির জন্য মানানসই পোশাকটি খুঁজে বের করার কী আপ্রাণ চেষ্টা, যেন ঝিনুক সেচে মুক্তার খোঁজ। বাঙালী ললনাদের ঐতিহ্যবাহী অনুসঙ্গ শাড়ি ছাড়াও তারা কিনছেন সালোয়ার কামিজ।

ছেলেরা ঈদবাজারে জুতসই পাঞ্জাবি কিনছেন। তবে গরমে ঈদ হওয়ায় ছেলে মেয়েরা সবাই সূতি কাপড়ের প্রতি আগ্রহী।

উপজেলার বিভিন্ন অভিজাত বিপনী বিতান শপিংমল এমনকি ফুটপাত উপচেপড়া ভিড়। সকাল থেকে দুপুর ও বিকেল থেকে সন্ধ্যারাত পর্যন্ত রূপ নেয় ক্রেতা ও দর্শনার্থী সমুদ্রে। উদ্দেশ্য আসন্ন ঈদুল ফিতরের জন্য নতুন পোশাক এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ কেনা।

গেল বছরের তুলনায় একটু দাম বেশি বলেও দাবী ক্রেতাদের। ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে দরকসাকসির শেষে বাড়ি ফেরার পথে সবার হাতেই থাকছে এক বা একাধিক নতুন কাপড়ে ভরা ব্যাগ।

শাড়ী ছাড়া বাঙ্গালী নারীর কোন অনুষ্ঠানই যেন বেমানান। সেই শাড়ীর সাথে রয়েছে নারীদের নাড়ীর টান বাঙ্গালীয়ানা। সেই টানেই তারা ছুটে চলেছেন এক দোকান থেকে অন্য দোকানে শাড়ী কিনতে। দোকানে পাওয়া যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কাতান, বালিচুরি, রাজশাহী সিল্ক।

পাবনার তাঁতের শাড়ি যেমন নারীদের মন কাড়ছে তেমনি টাঙ্গাইলের গ্রামীণ চেকও নারীদের মন মাতিয়ে তুলেছে। তুলনা মূলকভাবে শাড়ীর দাম নাগালের মধ্যে। এবারে গরমকালে ঈদ।

তাই সকলে সূতী কাপড়ে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন কাজল বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান কাজল ও বম্বের আলাউদ্দীন।

সুইয়ের ফোঁড়ে লুকিয়ে থাকা সুন্দর কারুকাজের পাঞ্জাবি আর সাদামাটা নকশার ও ঝাকঝকহীন কারুকাজের পাঞ্জাবির সঙ্গেও মিলিয়ে অনেক ক্রেতা কিনছেন পছন্দসই কটি। শর্ট পাঞ্জাবিও বিক্রি হচ্ছে তবে তুলনামূলক কম।

পাঞ্জাবির কলার, হাতা বা বুকের সামনে আছে নানা ধরনের নকশা। লম্বা পাঞ্জাবিতে কলার ও বুকের দিকে থাকছে পুঁতি বা সুতার কাজ। আছে লম্বা, সেমিলম্বা, শর্ট, ঢিলেঢালা, আঁটসাঁট পাঞ্জাবি। 

জামান গার্মেন্ট্স এর মালিক জামান জানান, পাঞ্জাবী ছাড়াও একটু রূচীশীল ক্রেতারা কিনছেন কারুকাজ খচিত ফতুয়া। দামও সাধ এবং সাধ্যের নাগালে। বিভিন্ন দোকানে প্রকার ভেদে পাঞ্জাবী বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকায়।

ফতুয়ায় আছে নতুনত্বের ছোঁয়া। জুড়ে দেয়া আছে বাড়তি পকেট। এসব ফতুয়া পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকায়। 

মেয়েদের পোশাকের মধ্যে এবার পাথরের কাজের তুলনায় সুতার কাজের কামিজগুলো ভালো চলছে। বিাভিন্ন দোকান ঘুরে দোকানী ও ক্রেতাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ভারতীয় কাপড়ে জরি, সুতা, পুঁথি, চুমকি, কুন্দন ইত্যাদি দিয়ে নকশা করা সালোয়ার-কামিজের চাহিদা আছে বেশ।

সূতি পোশাকের চাহিদাটা একটু বেশি। এ চাহিদা বেশি থাকার কারণ মূলত গরম। এছাড়া গরমে হালকা রঙের প্রাধান্য থাকলেও উৎসবের কারণে গাঢ় রঙের পোশাকও বিক্রি হচ্ছে বেশ।

গাড়াডোব গ্রামের গৃহবধু সানজিদা জানান, পরি, পাকিস্তানি, সারারা, গারারা, প্রজাপতিসহ নানা ডিজাইনের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। কাজ ভেদে এসব পোশাকের দাম পড়ছে আড়াই হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। আরো বেশি দামের পোশাকও আছে।

দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্রেতারা জানান, গেল ঈদের চেয়ে এবার পোশাকের দাম একটু বেশি। তারপরও কাঙ্খিত অনুসঙ্গ কিনতে পেরে তারা খুশি বলে জানালেন গাংনীর সেনা সদস্য হাসান। 

এদিকে পোশাকের সাথে মিলিয়ে জুতা আর হাল্কা প্রসাধনী কেনার পালা। স্বল্প দামে টেকসই পাদুকাটা চাচ্ছেন তারা। তবে মেয়েদের একটু বাড়তি কেনাকাটার মধ্যে রয়েছে প্রসাধনী। সাজু গুজু করে মনটা রাঙানোর পাশাপাশি হাতটা রাঙাতে হবে। তাই মেহেদী কেনারও ধুম পড়েছে তাদের।

বিভিন্ন কোম্পানীর তৈরী মেহেদী বাজারে পাওয়া গেলেও বেশী বিক্রি হচ্ছে রাঙাপরী। সাথে থাকা স্বামী ভাই বন্ধু বা প্রেমিকের পকেট ফাঁকা হলেও মেয়েদের সেদিকে যেন কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। ছেলেরাও সম্মান বাঁচাতে মুখে যেন কুলুপ এঁটেছেন। 

মধ্য ও নিম্ন বিত্তদের ভরসার স্থান ফুটপাথের বাজারও বেশ জমজমাট। নি¤œ আয়ের ক্রেতাদের ভিড় ছিল বেশি। কি নেই এখানে? অভিজাত বিপণিতে যা পাওয়া যায় ঠিক একই ধরনের অনুষঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে এখানে।

কয়েকজন জানালেন, ফুটপাথে সালোয়ার কামিজ ও বাচ্চাদের কাপড়-চোপড় বেশি বিক্রি হচ্ছে। শার্ট ও গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য অনুষঙ্গের তুলনায় কম।

গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, ক্রেতা বিক্রেতাদের নির্বিঘœ কেনা কাটা ও বাড়তি নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।