বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

কুমিল্লা প্রতিনিধি জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কর্মস্থলে অন্তত চার মাস ধরে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই এনামুলের বিরুদ্ধে। নিজ জেলা ও দাউদকান্দি মডেল থানার পার্শ্ববর্তী তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোক হওয়ায় বদলিকৃত এই অফিসারকে না ছাড়ার পিছনে সরাসরি জড়িত রয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী নিজেই। সাম্প্রতিক […]

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

বদলির আদেশের পরেও পুরনো কর্মস্থলে এসআই এনামুল, সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে ওসির ঘুষ

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জানুয়ারী ২০২৫, ২২:১৬

কুমিল্লা প্রতিনিধি

জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরনো কর্মস্থলে অন্তত চার মাস ধরে অবস্থান করার অভিযোগ উঠেছে দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই এনামুলের বিরুদ্ধে। নিজ জেলা ও দাউদকান্দি মডেল থানার পার্শ্ববর্তী তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লোক হওয়ায় বদলিকৃত এই অফিসারকে না ছাড়ার পিছনে সরাসরি জড়িত রয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী নিজেই। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে গত ৩ জানুয়ারি টাইমস নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পুরনো কর্মস্থল ছাড়েননি অভিযুক্ত এই দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা। উল্টো এই দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তাকে রক্ষা করতে সাংবাদিককে বার বার ম্যানেজ করতে ঘুষ দেওয়ার সরাসরি চেষ্টা করেছেন ওসি জুনায়েত চৌধুরী।

গত ৩ জানুয়ারি নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর রহস্যময়ভাবে সেই পুলিশ কর্মকর্তারকে না ছেড়ে উল্টো ৩ দিনের ছুটিতে পাঠান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ নিয়ে ১১ জানুয়ারি (শনিবার) সরাসরি কথা বলতে আমরা মুখোমুখি হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরীর। এ সময় দুই-তিন দিনের মধ্যে অভিযুক্ত সেই পুলিশ অফিসারকে ছেড়ে দিবেন বলে ১ম দফায় নিজ অফিসে বসে পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে সাংবাদিককে ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা ঘুষ দিতে চেষ্টা করেন সেই ওসি। কিছুদিন পরে (গত শুক্রবার) ২য় দফায় সাংবাদিককে ম্যানেজ করতে আবারো চেষ্টা করেন থানার ওসি জানায়েত চৌধুরী। এজন্য দাউদকান্দি থেকে অন্তত ৫০ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত কুমিল্লা নগরীতে টাইমস নিউজের অফিসে পাঠান পুলিশের আরেক এসআইকে। আগত সেই পুলিশ অফিসার এ সময় সাংবাদিককে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা ঘুষ দিতে চেষ্টা করেন এবং বিষফোরক মন্তব্য করেন তিনি নানা বিষয়ে।

জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ০৯ অক্টোবর- ২০২৪ তারিখে কুমিল্লার পুলিশ সুপার একটি বদলির আদেশ দেন। সেখানে এসআই এনামুলকে দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে লালমাই থানাধীন ভূচ্চি পুলিশ ফাঁড়িতে বদলির আদেশ দেন। কর্মজীবনে নানান ধরণের অপরাধে নিজেকে জড়িয়ে পত্রিকার পাতার হেডলাইন হয়েছেন বহুবার দাপুটে এই পুলিশ কর্মকর্তা। তবুও থেমে নেই তার অপকর্মের চাকা। এসআই এনামুল হক ২০১৩খ্রিঃ থেকে ২০১৫ খ্রিঃ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন টানা দাউদকান্দি মডেল থানাধীন গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তৎকালিন সময়ে অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা রেঞ্জে বদলি হন তিনি। কিন্তু রহস্যময়ভাবে তিনি সেখান থেকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও জড়িয়ে পড়েন নানান ধরণের অপরাধে। ফলে আবারও তাকে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি করা হয় নৌ-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে।

তারপর পুলিশের হেডকোয়ার্টার এর নির্দেশে কুমিল্লা জেলা ব্যতীত অন্য জেলায় বদলি হতে পারবে মর্মে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরে তিনি নামমাত্র লক্ষীপুর জেলায় বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে ১ মাসের ব্যবধানে তৎকালিন সময়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল হক (বর্তমান কর্মস্থল দাউদকান্দির পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁদপুরের একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে) এর ইচ্ছেতে ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে হাত করে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে তৎকালিন পুলিশ সুপার আব্দল মান্নানকে ম্যানেজ করতে সরাসরি ওসি মোজাম্মেল তদবির করেন তাকে দাউদকান্দি মডেল থানায় পদায়নের জন্য। পরে তিনি সে সময় আবারও যোগ দেন পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দি মডেল থানায়। এরপর তাকে পিছনে ফিরে আর তাকাতে হয়নি।

আওয়ামি লীগ সরকারের আমলে জড়িয়েছিলেন নানা অনিয়মে। নিজেকে জড়িয়েছিলেন আওয়ামীলীগের বিশ্বস্ত এক হাতিয়ার হিসেবে। ৫ আগষ্টের পরে সবকিছু পাল্টে গেলেও পাল্টেনি এসআই এনামুল। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগষ্টের পরে তার চিরচেনা পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দিতে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের পলাতক বহু নেতাকমীর সাথে তার এখনো যোগাযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পদায়ন হওয়া দাউদকান্দি মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হারুন দীর্ঘ দুই বছরের উপরে সময় অতিবাহিত করলেও তার বদলির কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ। অভিযোগ রয়েছে ৫ আগষ্টের পর পলাতক আসামীদের সাথে রয়েছে তারও গোপন যোগাযোগ। 

উল্লেখ যে, ওসি মোজাম্মেল যখন চট্টগ্রাম জেলার শীতাকুন্ড থানার তদন্ত ইন্সপেক্টে, তখন সে সময়ের চট্টগ্রাম জেলার এসপি ছিলেন নুরে আলম মিনা। সময়ের ব্যবধানে ২০২৩ সালে যখন নুরে আলম মিনা চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদান করেন তখনি ওসি মোজাম্মেল বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি হয়ে বাগিয়ে নেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসির চেয়ারটি। এরপর ওসি মোজাম্মেল পুলিশ বাহিনীর আড়ালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গড়ে তুলেন অপরাধের সাম্রাজ্য। আর এই অপরাধ সাম্রাজ্যের সিন্ডিকেট বাহিনীতে ছিলেন থানার এসআই এনামুল, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই হারুন ও থানাধীন গৌরিপুর পালিশ ফাঁড়ির এসআই সাইদুল ইসলাম অন্যতম। ৫ আগষ্টের পর অন্য সদস্যরা বদলি হলেও এই দুই ব্যক্তি এখনো রয়েছেন পুরনো কর্মস্থলেই। যা নিয়ে রহস্য যেন কিছুতেই থামছে না তাদেরকে নিয়ে।

৫ আগষ্টের আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মিলিত হয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানী, মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ঘুষ কেলেঙ্কারী, নিরিহ মানুষদেরকে মাদক দিয়ে হয়রানি ও জব্দকৃত মালামাল আত্মসাৎসহ নানান ধরণের গুরুতর অপকর্মে জড়িত থাকার বিষয়ে গত বছরের ১৩ জুন ও ২৪ জুন দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় থানা পুলিশের সেই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ২৪ জুন- ২৪ খিঃ, কুমিল্লার পুলিশ সুপারের ২৭ জুন- ২৪খিঃ ও ২৯জুন- ২৪ খিঃ তারিখে স্বারকের পেক্ষিতে সহকারী পুলিশ সুপার, দাউদকান্দি সার্কেলকে ৩০ জুন- ২০২৪ তারিখে পুলিশ সাদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানপূর্বক ২১ কার্য দিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় ২৪’র জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনার পেক্ষিতে সেই প্রতিবেদন আদৌ জমা দিতে পারেননি তদন্ত কর্তৃপক্ষ।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।