বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

৩০০০ কোটি টাকা লোপাট বাখরাবাদ গ্যাসের এমডি শংকর বাবুর

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৯

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে কিনেছেন ১৩০ বিঘা জমি। চট্টগ্রাম, ফ্ল্যাট, বাড়ি, মিরসরাইয়ে বাড়ি, মিরসরাই মৌজায় ১৫০ বিঘা জমি। পরিবারের সবাই ধনী তার হাত ধরে। অবৈধ উপায়ে ১৫-২০ হাজার পরিবার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, ফিলিং স্টেশন মালিকের কাছ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অবৈধ সংযোগ দেওয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে, নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে, অবৈধ সংযোগ দিয়ে এমডি শংকর বাবু গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন।

বিভিন্ন অজুহাতে সংযোগ কেটে দিয়ে ও সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে কুমিল্লার আলেখারচড় বিশ্বরোড সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, মাস্টার সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, রাহাত সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এমডি শংকর বাবুর শ্বশুরবাড়ি এলাকা কালিবাজার এলাকা, কুমিল্লা সদর, শংকর পুর, দুর্গাপুর, মনিপুর, করিঅলপাড়া, মোকাম, পাঁচকিতা, কোরাপাই, নিমসার, বুড়িচং কাছারিতলা, মহিনপুর, রামপুর, কুসুমপুর, কামাড়খাড়া গ্রামের ১৫-২০ হাজার পরিবারের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচয় দিতেন এমডি শংকর বাবু। কাউকে কোনো পাত্তাই দিতেন না। সব কিছুই করতেন নিজের ইচ্ছামতো। ঘুসের টাকা পেতেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বোর্ড চেয়ারম্যান পর্যন্ত।

কামাড়খাড়া এলাকায় ঠিকাদার মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাছ থেকে এই এমডি সংযোগ দেওয়ার নামে নিয়েছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। সংযোগ দেওয়ার নামে পরে আর সংযোগ দেওয়া হয়নি। গ্রাহকরা আমাকে ধরেন। এমনভাবে কুমিল্লাসহ নোয়াখালী, ফেনী বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়েছেন প্রায় ২০০০ কোটি টাকা।

ঠিকাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শংকর বাবু ঘুস ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। যখন খুশি কাউকে সংযোগ দিতেন, যখন খুশি তিনি সংযোগ বন্ধ করে দিতেন। তার ইশারায় চলত কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস অফিস। কেউ তাকে ভয়ে কিছু বলতে পারতো না। তার ইশারা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ত না।

কুমিল্লা বুড়িচং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি মালিক মো. খোরশেদ আলম বলেন, শংকর বাবু আমাকে অনেক হয়রানি করেছেন। তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে আমার কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আমি না দিলে আমাকে ২ বছর হয়রানি করেছেন। আমাকে ঘুরতে হয়েছে টেবিলে টেবিলে। ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ে না। আড়াই বছর পর আমি সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করে নতুন করে সংযোগ পাই।

কুমিল্লা আমতলী সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, আমার কাছে চেয়েছিল ১৫ কোটি টাকা আমি দিতে না চাইলে আমার সংযোগটি কেটে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় আমার পাম্প। আমাকে হয়রানি করা হয় ৩ বছর ধরে। পরে আমি এমডির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট মামলা দায়ের করেছি। মামলা হাইকোর্টে চলমান।

তিনি বলেন, এমডি শংকর বাবু সব সময় নিজেকে অনেক ক্ষমতাসীন মনে করতেন, কাউকে কোনো পাত্তা দিতেন না।

মনিপুর এলাকার গ্রাহক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নামে ঠিকাদারের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন শংকর বাবু। এরপরও আমি সংযোগ পাইনি।

কড়িহলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, আমার এলাকায় গ্যাস দেওয়ার কথা বলে, বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের ঠিকাদার আওয়ামী লীগের এক নেতা নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকার মতো কিন্তু গ্যাস সংযোগ দেননি। আমরা আজও ঠিকাদারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। এমন অভিযোগ যেন বাখরাবাদে হাজারে হাজার।

এদিকে বক্তব্য জানতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক এমডি শংকর বাবুর মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান এমডি আনোয়ারুল বলেন, আমি বেশিদিন হয়নি যোগদান করেছি। অনেক অবৈধ সংযোগের অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকশ অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। মামলা হয়েছে। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছি।

বছরের পর বছর ফাইল পড়ে থাকার বিষয়ে বর্তমান এমডি বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সারাদেশ

‘ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে গর্বিত, আমাদের মেয়েও কম নয়’ : পৌর জামায়াতের আমির

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি […]

নিউজ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাহী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা-এর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কাঁটাবন জামে মসজিদে জোহরের নামাজের পর পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে আকদ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ফরহাদের মামাতো ভাই লুৎফুর রহমান জানান, উভয় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শান্ত ও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আকদ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীসহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

এসএম ফরহাদ চট্টগ্রামের সন্তান। তার বাবা মাওলানা ফোরকান চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ফরহাদ পরিবারের বড় ছেলে এবং ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে কনে জান্নাতুল ফেরদৌস সানজিদা ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম সমাজ বড়বাড়ির সন্তান। তিনি স্থানীয় জামায়াত নেতা ও ব্যবসায়ী এমদাদুল্লাহ কাজলের বড় মেয়ে। সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী এবং চাকসুর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

সোনাগাজী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা কালিম উল্যাহ বলেন, “ফরহাদকে জামাই হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। আমাদের মেয়েও কোনো অংশে কম নয়। চাকসু নির্বাচনে ছয় হাজার ভোট পেয়ে সানজিদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হয়েছে।”

উল্লেখ্য, জিএস ফরহাদের বাগদান অনুষ্ঠান ডিসেম্বরের মাঝামাঝি হওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

সারাদেশ

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা […]

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ড ‘শাহীন চেয়ারম্যান’

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৭

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখসারির সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’-এর নাম। গোয়েন্দা সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, অর্থ ও অস্ত্র—দুটোর ব্যবস্থাপনাতেই তার সরাসরি ভূমিকা ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এই হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যান একা ছিলেন না। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতায় ছিলেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি, যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

গোয়েন্দাদের দাবি, হাদির ওপর হামলার পর হামলাকারীদের ঢাকা থেকে সীমান্তের দিকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ। এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে ও পরে হত্যাকারীদের সঙ্গে তার একাধিকবার যোগাযোগ হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শরিফ ওসমান হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং গত বছরের ৫ আগস্টের পর তার ধারাবাহিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আওয়ামী লীগকে চরমভাবে ক্ষুব্ধ করে তোলে। দলটির অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে হাদিকে ‘বড় ঝুঁকি’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই তাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ছক তৈরি হয়।

শাহীন আহমেদের রাজনৈতিক ও অপরাধী পরিচিতিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী নেতা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথিতে বহুদিন ধরেই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের সময় সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে তিনি ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং নানা অভিযোগ সত্ত্বেও ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাহীন চেয়ারম্যান সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান। প্রথম দিকে তিনি আত্মগোপনে থাকলেও গত কয়েক মাসে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দেশে থাকা ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল ও খুদেবার্তার সূত্র ধরে শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের সঙ্গে হত্যাকারীদের যোগাযোগের তথ্যও মিলেছে। ভারতে অবস্থানরত কয়েকটি গ্রুপ থেকে অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢাকায় থাকা সহযোগীদের কাজ সমন্বয় করা হচ্ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

সূত্র আরও জানায়, এই মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও এসেছে। তাদের ভূমিকা যাচাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কেরানীগঞ্জের দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলছে। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডসহ সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হবে।’

সারাদেশ

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার […]

শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৬

জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সম্মানিত সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জনাব আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক আজ রাত ৩টায় কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।