শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

৩০০০ কোটি টাকা লোপাট বাখরাবাদ গ্যাসের এমডি শংকর বাবুর

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে […]

নিউজ ডেস্ক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২৩:৩৯

সাড়ে তিন বছরে ঘুস আর দুর্নীতির মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি শংকর বাবু ও কোম্পানিটির কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারী ও বেসরকারি কিছু ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

এমডি শংকর বাবু সম্পদের পাহাড় গড়েছেন স্ত্রী-পুত্র শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনের নামে। স্ত্রী ও পুত্রের নামে কুমিল্লার কালীরবাজারে কিনেছেন ১৩০ বিঘা জমি। চট্টগ্রাম, ফ্ল্যাট, বাড়ি, মিরসরাইয়ে বাড়ি, মিরসরাই মৌজায় ১৫০ বিঘা জমি। পরিবারের সবাই ধনী তার হাত ধরে। অবৈধ উপায়ে ১৫-২০ হাজার পরিবার, শিল্প প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, ফিলিং স্টেশন মালিকের কাছ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অবৈধ সংযোগ দেওয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নামে, নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে, অবৈধ সংযোগ দিয়ে এমডি শংকর বাবু গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তার দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন।

বিভিন্ন অজুহাতে সংযোগ কেটে দিয়ে ও সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে কুমিল্লার আলেখারচড় বিশ্বরোড সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, মাস্টার সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, রাহাত সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশন, বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া এমডি শংকর বাবুর শ্বশুরবাড়ি এলাকা কালিবাজার এলাকা, কুমিল্লা সদর, শংকর পুর, দুর্গাপুর, মনিপুর, করিঅলপাড়া, মোকাম, পাঁচকিতা, কোরাপাই, নিমসার, বুড়িচং কাছারিতলা, মহিনপুর, রামপুর, কুসুমপুর, কামাড়খাড়া গ্রামের ১৫-২০ হাজার পরিবারের কাছে থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচয় দিতেন এমডি শংকর বাবু। কাউকে কোনো পাত্তাই দিতেন না। সব কিছুই করতেন নিজের ইচ্ছামতো। ঘুসের টাকা পেতেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বোর্ড চেয়ারম্যান পর্যন্ত।

কামাড়খাড়া এলাকায় ঠিকাদার মনির হোসেন বলেন, আমাদের কাছ থেকে এই এমডি সংযোগ দেওয়ার নামে নিয়েছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা। সংযোগ দেওয়ার নামে পরে আর সংযোগ দেওয়া হয়নি। গ্রাহকরা আমাকে ধরেন। এমনভাবে কুমিল্লাসহ নোয়াখালী, ফেনী বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে নিয়েছেন প্রায় ২০০০ কোটি টাকা।

ঠিকাদার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, শংকর বাবু ঘুস ছাড়া কিছুই বুঝতেন না। যখন খুশি কাউকে সংযোগ দিতেন, যখন খুশি তিনি সংযোগ বন্ধ করে দিতেন। তার ইশারায় চলত কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস অফিস। কেউ তাকে ভয়ে কিছু বলতে পারতো না। তার ইশারা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ত না।

কুমিল্লা বুড়িচং ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বুড়িচং খোরশেদ আলম সিএনজি মালিক মো. খোরশেদ আলম বলেন, শংকর বাবু আমাকে অনেক হয়রানি করেছেন। তার নিজস্ব সোর্সের মাধ্যমে আমার কাছে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আমি না দিলে আমাকে ২ বছর হয়রানি করেছেন। আমাকে ঘুরতে হয়েছে টেবিলে টেবিলে। ঘুস ছাড়া ফাইল নড়ে না। আড়াই বছর পর আমি সুপ্রিম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করে নতুন করে সংযোগ পাই।

কুমিল্লা আমতলী সাবুরিয়া সিএনজি অ্যান্ড ফিলিং স্টেশনের মালিক মাসুদুর রহমান বলেন, আমার কাছে চেয়েছিল ১৫ কোটি টাকা আমি দিতে না চাইলে আমার সংযোগটি কেটে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় আমার পাম্প। আমাকে হয়রানি করা হয় ৩ বছর ধরে। পরে আমি এমডির বিরুদ্ধে হাইকোর্ট মামলা দায়ের করেছি। মামলা হাইকোর্টে চলমান।

তিনি বলেন, এমডি শংকর বাবু সব সময় নিজেকে অনেক ক্ষমতাসীন মনে করতেন, কাউকে কোনো পাত্তা দিতেন না।

মনিপুর এলাকার গ্রাহক ইসমাইল হোসেন বলেন, বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নামে ঠিকাদারের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন শংকর বাবু। এরপরও আমি সংযোগ পাইনি।

কড়িহলপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন বলেন, আমার এলাকায় গ্যাস দেওয়ার কথা বলে, বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের ঠিকাদার আওয়ামী লীগের এক নেতা নিয়েছেন প্রায় ২ কোটি টাকার মতো কিন্তু গ্যাস সংযোগ দেননি। আমরা আজও ঠিকাদারের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। এমন অভিযোগ যেন বাখরাবাদে হাজারে হাজার।

এদিকে বক্তব্য জানতে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাবেক এমডি শংকর বাবুর মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান এমডি আনোয়ারুল বলেন, আমি বেশিদিন হয়নি যোগদান করেছি। অনেক অবৈধ সংযোগের অভিযোগ পেয়েছি। কয়েকশ অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছি। মামলা হয়েছে। আমরা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছি।

বছরের পর বছর ফাইল পড়ে থাকার বিষয়ে বর্তমান এমডি বলেন, আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।

সারাদেশ

পূজা মন্ডপের পাশে মুসলিম শিশু ধ/র্ষ/ণ, পূজামণ্ডপের সহসভাপতি ভজেন্দ্র সরকার গ্রেফতার

পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে

নিউজ ডেস্ক

০২ অক্টোবর ২০২৫, ০০:৩২

গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ীতে পূজা মণ্ডপের পাশে আট বছরের এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ অভিযুক্ত ভজেন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতার হওয়া ভজেন্দ্র সরকার (৫৫) আশ্রয়ণ প্রকল্প পূজামণ্ডপের সহসভাপতি এবং মেঘলাল সরকারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, পূজা চলাকালীন সময়ে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে থাকা অবস্থায় ভজেন্দ্র সরকার কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নেয়। পরে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর শিশুটির বড়ভাই ও স্বজনরা গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা ভজেন্দ্র সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে কাশিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। শিশুটির মা মোসা. ফাতেমা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং মামলাটি দ্রুত তদন্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি এমন অপরাধে জড়ান, তবে তা সমাজে গভীর ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।

সারাদেশ

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার […]

আ’লীগ নেতাকে বের করে দেওয়ায় ,যুবদলের অফিসে হামলার অভিযোগ বিএনপির সম্পাদকের বিরুদ্ধে

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৩

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার সদর উপজেলার যুবদলের একটি অফিসে হামলার অভিযোগ ওঠেছে কামাল খান নামের এক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষীগঞ্জ বাজারে ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এর আগে ওইদিন বিকালে লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের এক আ’লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায়। বিষয়টি ওই নেতাকে জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে তার লোকজন নিয়ে অফিসটিতে হামলা করে। পরে সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপির লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। 

ফুল উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়নের হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তবে তার কোন পদ পদবী নেই। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নেত্রকোনা সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের ভাতিজার বউভাতের অনুষ্ঠান চলছিল। এ অনুষ্ঠানে আশপাশের এলাকা সহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনকে দাওয়াত করা হয়। যথারীতি ওইদিন দুপুর থেকে আমন্ত্রিত লোকজন আসতে থাকেন।

আনন্দ ঘন পরিবেশে এলাকার যুবসমাজ আপ্যায়ন কাজ করেন। বিকালে পৌর সদরের তোফায়েল নামের এক ব্যক্তি দাওয়াত খেয়ে লক্ষীগঞ্জ বাজারের ইউনিয়ন যুবদলের অফিসে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে বসেন। তখন ফুল মিয়া নামের এক ব্যক্তি যুবদলের অফিসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তোফায়েল বসতে বলেন।

ফুল মিয়া অফিসে বসার পর স্থানীয় এক যুবদল নেতা বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে অত্যাচার নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তাকে তাড়িয়ে দেন। ফুল মিয়া বিষয়টি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খানের কাছে জানান। পরে কামাল বিষয়টি জানার পর যুবদলের অফিসে আসেন। তোফায়েল সহ উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কামালকে ঘটনা খুলে বলেন এবং তাকে শান্ত করে বুঝিয়ে দেন। কামাল খান যুবদলের অফিস থেকে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তার লোকজন অফিসে হামলা ভাঙচুর করেন।

বিএনপি নেতা বাবুল মিয়া বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ফুল মিয়া দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকার লোকজনকে অত্যাচার নির্যাতন করেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও জেলা বিএনপি’র নেতা শফিকুল কাদের সুজা ভাইয়ের উপরও সে হামলা করে।

তাকে যুবদলের অফিসে থেকে কিছু পোলাপান বখাঝখা করে তাড়িয়ে দেয়। পরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তার লোকজন নিয়ে যুবদলের অফিসে হামলা ভাঙচুর করে। তবে আমরা যুবদলের লোকজনকে ঝামেলা করতে দেইনি। 

নেত্রকোনা পৌর শহরের কুরপাড়ের বাসিন্দা তোফায়েল মীর বলেন, আমি লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল ভাইয়ের ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় যুবদলের অফিসে নেতাকর্মীদের দেখে বসি। কিছুক্ষণ পর একজন বয়স্ক লোককে বারান্দার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বসতে বলি।

আমি জানিনা তিনি আওয়ামী লীগ করতেন কিনা। পরে কিছু পোলাপান তার অত্যাচার নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে গালমন্দ করে অফিস থেকে চলে যেতে বলে। এরপর তিনি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কামাল ভাই যুবদলের অফিসে আসেন।

তাকে আমরা বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর তিনি চলে যান। কিন্তু দশ মিনিট পর তিনি তার লোকজন নিয়ে অফিসে এসে হামলা করেন। বিষয়টি দেখে হতবাক হয়েছি।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম বলেন, ফুল মিয়া নামের একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে যুবদলের অফিস থেকে বের করে দেওয়ায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল খান তার লোকজন নিয়ে অফিসে হামলা করেন।

দায়িত্বশীল কোন নেতা যদি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করে তা দুঃখজনক। আমি চাই সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যাতে আর কেউ পতিত আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করতে না পারে।

লক্ষীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামাল খান বলেন, আমার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক দাওয়াতি মেহমান এসেছে। ফুল মিয়াও দাওয়াত খেতে আসে। তাকে প্রথমে আমাদের দলের ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু লোকজন বাজারে মারপিট করে।

যেহেতু আমার বাড়িতে দাওয়াত খেতে এসেছে বিষয়টি আমি জেনে তাদের বলি কাজটা ঠিক হয়নি। পরে আরেক দফা তাকে মারপিট করা হয়। আমার চেম্বারের সিসি ক্যামেরা আছে প্রয়োজনে এখানে যা সংঘটিত হয়েছে এর সব তথ্য প্রমাণ ভিডিও ফুটেজে পাওয়া যাবে। আমার সুনাম নষ্ট করতে কিছু লোক পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা নিজেরাই ওই চেম্বারের চেয়ার ভাঙচুর করে একটা বাজে পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে ফুল মিয়াকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: কাজী শাহ্ নেওয়াজ বলেন, দলীয় অফিসে হামলা হয়েছে কিনা বিষয়টি জানিনা। তবে লক্ষীগঞ্জ একটি ঝামেলা হয়েছে শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সারাদেশ

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল। […]

একই আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী হলেন আপন দুই ভাই

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৪

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে দেখা দিয়েছে এক বিরল ও চমকপ্রদ পরিস্থিতি। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আপন দুই ভাই। বড় ভাই আজিজুর রহমান বিএনপির হয়ে মাঠে, আর ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক লড়ছেন জামায়াতের মনোনয়ন নিয়ে। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল।

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন, যেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আজিজুর রহমানকে প্রার্থী করা হয়। অন্যদিকে, জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছেন রৌমারী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। ফলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‘ভাইয়ের বিপরীতে ভাই’ এই অনন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় ছিলেন মোস্তাক। তিনি স্থানীয় জামায়াতের একটি প্রভাবশালী মুখ হিসেবে সমর্থকদের নিয়ে সক্রিয় প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিএনপি থেকে তার বড় ভাইয়ের মনোনয়ন ঘোষণার পর নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুই ভাইয়েরই এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকায় ভোটের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি চিলমারী, রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার। এ আসন ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনীতিকরা বলছেন, “রৌমারী-চিলমারীর ইতিহাসে এটাই প্রথমবার দুই ভাই একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নির্বাচনী মাঠে এক ধরনের আবেগ ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।”

জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “আমার বড় ভাই প্রার্থী হয়েছেন, এতে কোনো সমস্যা নেই। জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। জনগণ পরিবর্তন চায়।”
অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, “আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপির রাজনীতি করত। এখন জামায়াতে গেছে, তবে জনগণ এখনও আমার সঙ্গেই আছে। আমি মাঠে নামলে সেই সমর্থন আরো শক্ত হবে।”

দুই ভাইয়ের এই লড়াই শুধু রাজনীতিতে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভোটারদের মতে, এই নির্বাচনে রক্তের সম্পর্ক নয়, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে জনগণের ভালোবাসা ও রাজনৈতিক বিশ্বাস।