নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি গ্রামে তরকা রোগে আক্রান্ত একটি গরু জবাই করে তার মাংস খাওয়ার পর অন্তত ১০ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা দেখা দিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় আজ শুক্রবার একটি মেডিকেল টিম আসার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী গ্রামের মৃত মাঙ্গনের ছেলে আব্দুল গফুর সরকারের একটি গরু প্রায় এক সপ্তাহ আগে হঠাৎ পেটফাঁপা হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গ্রামের কয়েকজন মিলে গরুটি জবাই করে মাংস ভাগাভাগি করে নেন।
এরপর গরুর মাংস কাটা, রান্না করা ও খাওয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের শরীরে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোড়ার মতো ফোলা তৈরি হয় এবং শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হতে থাকে।
অসুস্থদের মধ্যে একই গ্রামের রহিম, মোস্তফা, আসাদ, ছানা, রাহুল ও লাভলীসহ কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ তিনজন বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমাছ আলী বলেন, চলনালী গ্রামের ছয়জন রোগী চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোগের ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তরকা রোগে আক্রান্ত গরুর মাংস খাওয়া বা নাড়াচাড়া করার কারণে তাঁরা তরকা রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।
এদিকে গুরুদাসপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান বলেন, অসুস্থ গরু জবাই করার বিষয়টি আগে প্রাণিসম্পদ দপ্তরকে জানানো হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গরুটি তরকা রোগে আক্রান্ত ছিল।
তিনি জানান, গত বছর উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার গরুকে তরকা রোগের টিকা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর চলনালী গ্রামের গবাদিপশুগুলোকে দ্রুত টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব গবাদিপশুকেই টিকার আওতায় আনা হবে।
প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, জবাই করা গরুর কিছু মাংস সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপস্থিতিতে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো গবাদিপশু অসুস্থ হলে গোপনে জবাই না করে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।