লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় নির্মিত হয়েছে সুবিশাল সংবর্ধনা মঞ্চ। কুড়িল থেকে শুরু করে মঞ্চ এলাকা পর্যন্ত দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা বিএনপি নেতা–কর্মীদের ঢলে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে।
৩০০ ফিট হাইওয়ে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোথাও এলাকাভিত্তিক জটলা বেঁধে স্লোগান, কোথাও সমবেত মিছিল—সব মিলিয়ে চারপাশে উৎসবের আমেজ। স্লোগান, প্ল্যাকার্ড আর উচ্ছ্বাসে মুখর পুরো এলাকা। স্পিকারবাহী ট্রাকে বাজছে দলীয় ও দেশাত্মবোধক গান।
বুধবার থেকেই পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেক নেতা–কর্মী ব্যানার ও ত্রিপল বিছিয়ে ফুটপাতে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করেছেন। পতাকা, মাথার ব্যান্ডসহ নানা সামগ্রী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের মেলা বসেছে, চালু হয়েছে অস্থায়ী খাবারের দোকানও।
মঞ্চের আশপাশের এলাকায় স্লোগানে মুখর কর্মীরা তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা করছেন। কেউ কেউ ধানের শীষ দিয়ে তৈরি পোশাক পরে অন্যদের উজ্জীবিত করছেন, আবার অনেককে ধানের শীষের মাথাল পরে গানের তালে তালে নাচতে দেখা গেছে।
এর আগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে পরিচালিত বাংলাদেশ বিমান–এর বিজি–২০২ ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর ছেড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর উদ্দেশে যাত্রা করে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টার দিকে উড়োজাহাজটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঢাকায় অবতরণের আগে এটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এ এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করবে।
এদিকে তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। ঢাকায় পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। এরপর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও প্রটোকলের মধ্যে তিনি সরাসরি পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চে যাবেন। সেখান থেকেই প্রায় ১৮ বছর পর সশরীরে আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় গতকাল থেকেই যৌথ বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। রাতে মঞ্চের সামনে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল দেখা গেছে। সেনাবাহিনীর একাধিক টিম গাড়িতে করে দফায় দফায় পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছে, স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা চৌকি।
ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের পাশাপাশি এ সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তার মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, ব্যক্তিগত সহকারী রহমান সানি এবং তাবাসসুম ফারহানা। এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশাবাদ জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও অভ্যর্থনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।