গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদনকে সরাসরি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তি হবে।
তিনি লেখেন,
‘গণভোটের ফলাফলের কার্যকারিতার উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা রিট মামলা আমরা আদালতে মোকাবিলা করব ইনশাআল্লাহ’। এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, গণভোটের ফল নিয়ে যে আইনি চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হয়েছে, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিহত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে আবেদনটি দাখিল করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়লাভ করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ভোট প্রদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ফল ঘোষণা করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। বিপক্ষে ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ভোটার। এ ফলাফলকে ঘিরেই এখন আইনি ও রাজনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।