জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনে দলীয় মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই একটি পক্ষ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তিনি দাবি করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে নারী ভোটারদের হিজাব খুলে নেওয়ার হুমকি, শারীরিক নির্যাতন, সভা-সমাবেশে হামলা এবং পীর-মুরুব্বিদের হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই মায়েদের কাপড় খুলে দিতে চায়, তারা ক্ষমতায় গেলে গোটা জাতিকে বিবস্ত্র করে ফেলবে।” তিনি অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলেও দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি এবং এ জন্য তিনি বিএনপিকে দায়ী করেন।
জনসভায় তিনি ঘোষণা দেন, ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী করে সরকার গঠন করা হবে। ওই সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে, দলীয়করণ বন্ধ করবে এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এতে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষা, ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সরকারি চিকিৎসাসেবা, কৃষির আধুনিকায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস, সুদমুক্ত ও যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে আইন ও বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকবে, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ হবে এবং খুনি ও দুর্নীতিবাজদের আর কোনো রক্ষাকবচ দেওয়া হবে না।