শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সন্ত্রাস চালাতে চাইলে আল্লাহর নাম নিয়ে সমান জবাব দেওয়া হবে—এর বেশি নয়। তবে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানানো হবে।
প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় এবং পরিস্থিতি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুর শহরের দারোগালি পৌর মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি শেরপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
জামায়াত আমির বলেন, ১৮ কোটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি নেতা-কর্মীদের সজাগ ও পাহারায় থাকার আহ্বান জানান। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা তাদের জন্য হালাল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যুবকরাই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার ককপিটে, আর আমরা থাকব যাত্রী আসনে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ এখন এক কঠিন বাঁকে দাঁড়িয়ে আছে এবং ১২ তারিখ সেই বাঁক পরিবর্তনের দিন। তিনি বলেন, “যারা আল্লাহর গোলামি করে, তারা কালো মেঘ দেখলে ভয় পায় না। আমরা এমন দেশ চাই, যেখানে রাজনীতির নামে মানুষ খুন হবে না। মানুষ হত্যার রাজনীতি আমরা ঘৃণা করি।”
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংক্রান্ত ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমি মায়েদের কীভাবে সম্মান করি—তা বাংলাদেশের ৯ কোটি মা জানেন। আমার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মায়েদের নিয়ে অরুচিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ না বুঝেই একটি দল মিছিল শুরু করেছে। কে করেছে, সবাই জানে—ঠাকুরঘরে কে, আমি কলা খাই না।”
তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টা পর অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় যদি কোনো মা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি তাঁদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার নামে বাজে মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার খবর যেন ভুলভাবে উপস্থাপন করা না হয়।”
শেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনের ডাকা সভায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার তিন দিন পরও কাউকে গ্রেপ্তার না করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, যারা নিজেদের দলের বহু মানুষকে বিদায় করেছে, তাদের কাছে মানুষের জীবন ও ইজ্জতের মূল্য নতুন কিছু নয়।
গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক নির্যাতনের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, একসময় দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সেই নিষেধাজ্ঞা দ্রুতই প্রত্যাহার হয়।
এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে করে শ্রীবরদীর গোপালখিলা খেলার মাঠে অবতরণ করেন তিনি। পরে শেরপুরের জনসভা শেষে জামালপুর যান।
জামালপুরের সিংহজানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের গতিপথ পরিবর্তনের নির্বাচন। শহীদদের রক্ত ও আহতদের ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে এই নির্বাচন নতুন বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা দেবে।”
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পর এবার জনগণের সামনে প্রকৃত পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।
তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান এবং বলেন, “এই নির্বাচন গত ৫৪ বছরের বস্তাপচা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির কবর রচনার নির্বাচন।”