সজিব রেজা, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় জুয়া ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়তে বাধ্য হয়। অভিযানে জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা কুলানন্দপুরের করতোয়া নদীর খেয়াঘাট পার হয়ে গোপাল চৌধুরীর বাড়ির পূর্ব পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ এবং রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর চরাঞ্চল হওয়ায় এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্গম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সেখানে জুয়া ও মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এর ফলে আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.ন.ম. নিয়ামত উল্লাহর নেতৃত্বে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা সহ একটি পুলিশ দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ১নং বুলাকীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কুলানন্দপুর এলাকায় করতোয়া নদীর খেয়াঘাট পার হয়ে একটি পরিত্যক্ত জমিতে টাকার বিনিময়ে ফরগুটি ও ডাবু দিয়ে জুয়া খেলা এবং মাদক সেবন ও কেনাবেচার তথ্য পাওয়া যায়।
সংবাদের সত্যতা যাচাই ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত প্রায় ১০০ থেকে ১১০ জন জুয়ারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বেআইনি জনতায় পরিণত হয়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।
আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটককৃতরা হলেন—ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীপুর এলাকার ময়নুল ইসলাম (৫২), রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আলতাফ হোসেন (৪৫), রঞ্জু মিয়া (৩৮), রফিকুল ইসলাম (৫০) এবং গাইবান্ধার সাদ্যুল্লাহপুর উপজেলার সাদেকুল ইসলাম (৫০)।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১৩টি ফরগুটি, দুটি কালো রঙের রাবারের ডাবু, নগদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা, চারটি বাটন মোবাইল ফোন, একটি স্মার্টফোন এবং পাঁচ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য ফেন্সিডিল (মোট ৫০০ মিলিলিটার) জব্দ করা হয়।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়া ও মাদক সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জুয়া ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের দাবি, জুয়া পরিচালনার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের নজর এড়ালেই আবারও নদীপাড়ের এসব এলাকায় জুয়ার আসর বসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।