বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে সামনে রেখে এবার পাঁচ লাখ হিন্দু সন্ন্যাসী নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ঘেরাওয়ের প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের উদ্দেশ্যে বিজেপি ও সাধু-সন্ন্যাসীদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আগে মিশন থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে বেগবাগান মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকেই এই হুমকি দেন তিনি।
বিক্ষোভে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মমতা যতই প্রাচীর করে, পুলিশ দিয়ে রাখুক, সরকারের তরফে যদি ব্যবস্থা না নেয়, তবে নতুন বছরের আগেই সব তুলে ফেলে দেব। গঙ্গাসাগর মেলায় পাঁচ লাখ সাধু যাবেন, সেখানে পূণ্যস্নান করার পর আমি তাদেরকে পথ দেখিয়ে মিশনের সামনে নিয়ে আসব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে এক হাজার সাধু এসেছেন, তিন হাজার নাগা সন্ন্যাসী। গঙ্গাসাগরে পাঁচ লাখ সাধু যাবেন। গঙ্গাসাগরের স্নান করে ফেরার পরে আমি সব সাধুকে বাবুঘাট থেকে পথ দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসব। কত ক্ষমতা আছে (পুলিশ কমিশনার) মনোজ ভার্মার ওই দিন দেখা যাবে।’
ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন গঙ্গাসাগর মেলা আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দেশজুড়ে লাখ লাখ হিন্দু সন্ন্যাসী ও পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। সেই মেলাকেই কেন্দ্র করে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস ঘেরাওয়ের এই হুমকি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে একই দিন দুপুরে হিন্দু সংহতি মঞ্চ নামে আরেকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কয়েক শতাধিক কর্মী শিয়ালদহ স্টেশন থেকে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হয়। তবে মিশনের প্রায় ২০০ মিটার আগে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে সংগঠনটির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে স্মারকলিপি জমা দেয়।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কলকাতা পুলিশ। মিশনের চারপাশে বড় লোহার ব্যারিকেড ও লোহার খাঁচা বসানো হয়। জলকামান, প্রিজন ভ্যান, লাঠিধারী পুলিশ, টিয়ার গ্যাসের শেল ও বক্স হাতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। পুরো এলাকা কার্যত নিরাপত্তার বলয়ে পরিণত হয়।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?