পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ঘোষিত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বাউফল উপজেলা বিএনপি। এ দাবিকে কেন্দ্র করে জরুরি সভা ডাকার পাশাপাশি বিক্ষোভ মিছিলও করেছে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে পৌর শহরের হাজন দালাল মার্কেটে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আ. জব্বার মৃধা।
সভায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ অভিযোগ করেন—যে ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি দলের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেননি এবং তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমরা তাকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নেব না।”
পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশ বলেন, মনোনীত শহিদুল আলম তালুকদার অতীতে ধানের শীষের বিরোধিতা করেছেন এবং আওয়ামী লীগপন্থী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন। তিনি দাবি জানান—মনোনয়ন বাতিল করে ত্যাগী নেতা মুনির হোসেন অথবা একেএম ফারুক তালুকদারকে প্রার্থী করা হোক।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতারাও একই দাবি তুলে বলেন—মনোনীত ব্যক্তি দলের দু:সময়ে কোনো ভূমিকা রাখেননি এবং নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না।
সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আ. জব্বার মৃধা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খোকন, যুবদলের সদস্য সচিব বশির পঞ্চায়েত, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মানুন খান, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক লিটন খান, তাতী দলের আহ্বায়ক জামাল মুন্সী, সাবেক ছাত্রদল নেতা মুনঈমূল ইসলাম মিরাজসহ অনেকে।
সভা শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর পটুয়াখালী-২ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের নাম ঘোষণা করে বিএনপি।
এরপর থেকেই অন্য দু’জন মনোনয়নপ্রত্যাশী—কেন্দ্রীয় সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম ফারুক তালুকদারের সমর্থকরা মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শনিবার রাতেও তাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।