বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থার মধ্যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে নভেম্বরের মধ্যে কিংবা ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা জানানো হলেও, শনিবার (২৯ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি জানিয়েছেন—এ সিদ্ধান্ত তাঁর “একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়”।
তারেক রহমান লিখেছেন, “সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও আছে। কিন্তু এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত নয়।” রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতা উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালেই তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
তার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তারেক রহমানের দেশে ফেরা আসলে কার ওপর নির্ভর করছে এবং কোন বাধা তাঁকে দেশে ফিরতে নিরুৎসাহিত করছে? বিএনপির পক্ষ থেকে আগেও তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল, তবে ঝুঁকির উৎস সম্পর্কে কখনোই স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারের কোনো বাধা নেই। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “তারেক রহমানের দেশে আসায় সরকারের তরফে কোনো আপত্তি নেই।” তিনি জানান, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন।
বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, তারেক রহমান এখন জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাব্য ব্যক্তি তিনিই। সে কারণে তাঁর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। দলীয় সূত্র বলছে, নির্বাচনের তপশিলের আগে বা পরে ফেরার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাঁর থাকার স্থান, অফিস, নিরাপত্তা—সব কিছুই প্রায় চূড়ান্ত।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “কখন ফিরবেন, সেটা তাঁর ওপরই ছেড়ে দিন। জাতীয়–আন্তর্জাতিক নানা ষড়যন্ত্র মাথায় রাখতে হবে।”
এদিকে খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন শারীরিক পরিস্থিতি এবং তারেক রহমানের স্ট্যাটাস—উভয়ই মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।