বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা ‘কৃত্রিমভাবে তৈরি’ এবং তাঁর খাবার–ওষুধে ‘বিষ মেশানো হয়েছিল’—এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী দাবি করেন, সরকারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে নানাভাবে “ছিনিমিনি খেলা হয়েছে”। তাঁর মতে—“যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, তাদের হাতে যদি দুরভিসন্ধি থাকে, তাহলে বন্দির জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তেই পারে।
শেখ হাসিনা ঠিক সেটাই করেছিলেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের “চক্রান্ত, প্রতারণা, অঙ্গীকারহীনতা এবং ভণ্ডামি” নিয়েই দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা করেছেন শেখ হাসিনা ও সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
রিজভী স্মরণ করিয়ে বলেন, স্বৈরাচার এরশাদের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের কঠোর দমন–পীড়নসহ নানা ধরনের উৎপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। “তখনও আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল”—বলেন তিনি। তাঁর মতে, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সেই নির্যাতন আরও ভয়ংকর ছিল, যার ফলেই খালেদা জিয়া আজ মারাত্মকভাবে অসুস্থ।
তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় পার্টি শেখ হাসিনার “পৈশাচিক শাসনামলে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছে”—যার কারণে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লেগেছে। রিজভী আরও বলেন, “এরশাদ আর হাসিনার চরিত্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বিরোধী অবস্থানে থাকলেও চূড়ান্ত সময়ে দুজনেই এক হয়ে যান।”
প্লট দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, এখন আদালতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। “হাসিনা যেভাবে ট্রাইব্যুনাল বানিয়ে বিচার করেছেন, আজ তিনি সেই একই ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি।”
ব্যাংক খাতের অনিয়ম নিয়ে তিনি বলেন—ঋণখেলাপি, টাকা লুট, আবারও ঋণ নেওয়ার সংস্কৃতি ‘হাসিনোমিকস’-এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
সবশেষে তিনি বলেন—“যারা নিজের দেশের মানুষ হত্যা করে, তাদের বিচার হবেই। পাপ কাউকে ছাড়ে না।”