সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক বেগম সেলিমা রহমান বলেন, বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি, অন্য কারও নয়। তারপরও একটি দল বিএনপির গণজোয়ার দেখে অপপ্রচারে নেমেছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেহেশতের টিকেট বিক্রি করছে। তারা ধর্মের নামে সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ধোঁকা দিচ্ছে।
এরা ধর্ম ব্যবসায়ী। দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা ক্ষেত্রে মেয়েদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করেছে। নারীদের হাতে সকল ধরনের ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তার শাসনামলে নারীরা সকল ধরনের কাজের অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। আমাদের দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া একজন নারী, তিনিই তিন তিনবার এই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদেশের স্বাধীনতা ভাসে ধানের শীষে, নারীরাই ধানের শীষে ভোট দিয়ে বারবার বিএনপিকে ক্ষমতায় আনে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমাজের নারী ও শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির নির্বাচনি অগ্রাধিকার। আপনাদের এই বগুড়ার সন্তান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সেই তারেক রহমানকে দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মাটিতে থাকতে দেয়নি ফ্যাস্টিস্ট আওয়ামী সরকার। বগুড়া হলো দেশের নেতৃত্ব দেওয়া সন্তানের জন্মভূমি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নারীদের সক্ষম করে তুলবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে নোয়াখালীতে এক নারী ধর্ষিত হয়েছিলো। আজও তার বিচার হয় নি। তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিতে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
২৫ নভেম্বর (মঙ্গলবার) শহরের ডিজে উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে বিকেলে বগুড়া-৫ (শেরপুর- ধুনট) এলাকার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।
এ সময় বক্তব্যে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, এখন আর স্লোগান ও বিশাল সমাবেশের সময় নয়, বরং ঘরে ঘরে গিয়ে সংগঠিত হওয়ার সময়। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দলের ভাবনা প্রচার করতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরক্ষরতা ও যৌতুকের জন্য নারী সমাজ আজও পিছিয়ে। এ কারনেই নারীরা নিপীড়িত ও নির্যাতিত। নারী সমাজের কথা বিবেচনা করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই যৌতুকবিরোধী আইন প্রণয়ন করেছিলেন, যা নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক। শহীদ জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারীরা রাজনীতি ও সমাজে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিশেষ অবদান রেখেছেন। নারীদেরকে রাজনীতির পথ সুগম করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদেরকে প্রথম সদস্যপদ প্রদান করেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রাম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেছেন।
বাংলাদেশের প্রথম মহিলা বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে যুগান্তকারী দ্রষ্টান্ত তৈরি করেছেন। তিনি অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন। প্রথমে মাধ্যমিক পরে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন বেগম খালেদা জিয়া। সংসদে সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে ৪৫ এ উন্নতি করেন বেগম খালেদা জিয়া।
গ্রামের মেয়েদের সুরক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া এসিড বিরোধী আইন পাস করেন। নারীর ক্ষমতায় যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে ৩৩ দফার ২৪ তম দফায় নারীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন দেশ নায়ক তারেক রহমান। নির্বাচিত হলে প্রতিটি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বেহেশতের টিকিটের মালিক আল্লাহ, কোন দলকে ভোট দিয়ে নয়। যারা বলে আমাদের কে ভোট দিলে বেহেশতে যেতে পারবেন। তাদের এটা অপপ্রচার। এখন প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের দেশ নায়ক তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ তাহা উদ্দিন নাঈন,
সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল বাসার, নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী সানভী, জেলা মহিলা দলের, জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক এম,আর হাসান পলাশ, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু, সহ-সভাপতি পিয়ার হোসেন পিয়ার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু,
সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হিরু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মোমিন, শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশীদ আপেল, যুবদল নেতা আশরাফুদ্দৌলা মামুন, শাহাবুল করিম, হাফিজুল আসিফ শাওন প্রমুখ।