মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বহুল আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টার পর ট্রাইব্যুনাল–১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় পড়া শুরু করেন।
রায় পড়ার মুহূর্তটি সরাসরি দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ট্রাইব্যুনালের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে। আদালত কক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, আর বাইরে ভিড় করছেন দেশি–বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
এদিকে রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে নজরকাড়া উপস্থিতি ছিল দেশের শীর্ষ ছাত্রনেতাদের। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস ফরহাদ, ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদ এবং জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিমকে একই কাতারে দাঁড়িয়ে রায় শুনতে দেখা যায়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ও ভুক্তভোগীদের পাশে থাকা এসব ছাত্রনেতার একসঙ্গে উপস্থিতি আদালত কক্ষে ভিন্নমাত্রার আবহ তৈরি করে।
রায় পড়ার সময় আদালত কক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই–অগাস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কয়েকজন স্বজন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নিহত সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামছি আরা জামান, নিহত মীর মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধসহ অনেকে। এ ঘটনায় আদালত কক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এই মামলার তিন আসামি হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন আদালতে উপস্থিত আছেন এবং ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার এই দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অন্য দুই বিচারক হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ঐতিহাসিক এই রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে—আর আদালত কক্ষে একই কাতারে দাঁড়ানো ছাত্রনেতারা যেন সেই উত্তেজনারই প্রতিচ্ছবি।