মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আজ ঘোষিত হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মামলার রায়। আর এই রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালত কক্ষে উপস্থিত রয়েছেন মামলার একমাত্র হাজিরা দেওয়া আসামি, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
কারাগার থেকে সকালেই তাকে বিশেষ নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। এজলাসে বসে বিমর্ষ মুখে, নীরবভাবে রায় শুনতে দেখা যায় তাকে। পুরো সময় তার মুখে গভীর উদ্বেগ ও ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার পুরো সময় তিনি কোনো শব্দ করেননি, কারও দিকে তাকানওনি—শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে রায় শুনে গেছেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজকের রায় ঘোষণা করছেন। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, মোট ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায় ছয় ভাগে পড়ে শোনানো হবে। এ সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন প্যানেলের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে। আদালত কক্ষের বাইরে দেশি–বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ভিড় দেখা গেছে। উপস্থিত আছেন জুলাই-অগাস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবার, ছাত্রনেতা এবং আন্দোলনকারীরা।
নিহত সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়র মা সামছি আরা জামান, মীর মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধসহ অনেকেই আদালত গ্যালারিতে বসে রায় শুনছেন। তাদের উপস্থিতিতে আদালত কক্ষে পরিবেশ আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও দমন–পীড়নের অভিযোগে এই মামলার বিচার শুরু হয়। তিন আসামির মধ্যে আদালতে উপস্থিত কেবল চৌধুরী আল মামুন। বাকি দুজন—শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল—পলাতক।
ঐতিহাসিক এ রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে উত্তেজনা, আর আদালত কক্ষে নীরবে বসে থাকা মামুন যেন সেই উত্তেজনারই এক নীরব প্রতিচ্ছবি।