আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা যাদের জন্য মায়া করে নাই, তাদের উচিত না শেখ হাসিনার জন্য মায়া দেখানো।”
সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “শেখ হাসিনার অপরাধের একমাত্র শাস্তি দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি নিশ্চিত করা। শুধু রায় ঘোষণা নয়, রায় কার্যকর করতে হবে।” তার এই মন্তব্য দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায় এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাশেদ খান দাবি করেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর দেশে গুম–খুন–নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর কান্না আজও থামেনি। তাদের জন্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার মানুষ আহত হওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।
আজ বেলা ১১টার পর রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল–১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা। রায়কে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট ও ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খানের এই মন্তব্য রায় ঘোষণার আগে জনমতকে আরও তীব্র ও সংবেদনশীল করেছে। তার বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন এবং দীর্ঘদিনের ক্ষত–বেদনার বহিঃপ্রকাশ।