ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামীকাল সোমবার সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের ভিত্তিতে এ মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হয়। রায়ের সম্প্রচারকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দা স্থাপনেরও প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও বিটিভির সিগন্যাল নিয়ে রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় ঘোষণা করবে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। অন্য দুই বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রোববার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম বলেন, “আমরা আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি এবং সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছি। রায়টি বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অন্যান্য টিভিও বিটিভির ফিড থেকে তা সম্প্রচার করতে পারবে।”
মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়েছেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের খালাসও চেয়েছেন তার আইনজীবী।
এই ঐতিহাসিক মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পরিবার, জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান—যারা স্টার উইটনেস হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এক পর্যায়ে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি মামুন।
রায়কে ঘিরে রাজধানীর মোড়ে মোড়ে বড় পর্দায় সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি থাকায় জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।