নীলফামারী জেলার চিলাহাটি স্টেশন এলাকার রেলওয়ের জমি দখল করে পজিশন বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার রমরমা ব্যবসায় মেতে উঠেছে স্টেশনের কর্মরত কয়েক ব্যক্তি। সম্প্রতি নবনির্মিত আইকনিক ভবনের সামনে পার্কিং এলাকার গাছ লাগানোর জমি বেড়া দিয়ে দখল করে চারটি দোকান বসানোর ব্যবসায় মেতে উঠেছে।
বুকিং সহকারী নাসির উদ্দিন সাগর রাতের আঁধারে পার্কিং এলাকার কয়েকটি গাছ তুলে ফেলে বাশের বেড়া দিয়ে ঘিরে তাদের দখলে নেয়। ঘটনাটি জানার পর চিলাহাটি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পার্কিং এলাকার ঘেরা দেওয়া জায়গাটির অর্ধেক জায়গা দখল করে নেয়।
এ নিয়ে চিলাহাটি রেলস্টেশনের প্লাটফর্মের উপরে উভয় পক্ষের মধ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যা সেদিনের সিসি ক্যামেরা দেখলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ কর্তৃপক্ষের নিকট দৌড় ঝাঁপের পর শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চলছে।
স্থানীয়রা জানান, নবনির্মিত আইকনিক ভবনের সামনে পার্কিং এলাকায় ফাঁকা জায়গায় গুলিতে প্রকল্প পরিচালক গাছ লাগিয়ে দর্শনীয় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। স্টেশনের কর্মরতরা সেই গাছ তুলে ফেলে বেড়া দিয়ে জায়গা দখল করে পজিশন বিক্রির ব্যবসায় মাতোয়ারা।
এখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব কেন। তারা আরো বলেন, রেলের নিয়ম অনুযায়ী কোন পরিত্যক্তা ফাঁকা জায়গা যে কেউ লিজ নিয়ে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে। কিন্তু চিলাহাটিতে স্টেশনের কর্মরত কয়েকজন এই ব্যবসায় জড়িত কেন। আবার কেউ রেলের নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে স্টেশন এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করেছে।
স্থানীয় একটি মহল জানান, চিলাহাটি স্টেশন সংলগ্ন রেলঘুন্টি এলাকায় মোটা অংকের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে রেলের জায়গায় অসংখ্য দোকান উচ্ছেদ করা হয়নি। অথচ মালিকানা জায়গা উচ্ছেদ করতে কোন বিলম্ব করা হয়নি।
অপরদিকে বাউন্ডারি ওয়ালের ভিতরে একাধিক দোকান বসানো হয়েছে। কিসের ভিত্তিতে কিভাবে এসব দোকান রেলের জমিতে গড়ে উঠেছে। রেলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলছে। স্টেশন মাস্টার গ্রুপে মাধ্যমে কেউ লিজ নিয়ে আসলে তারা রেলের জমির উপর দোকান তুলতে কোন আপত্তি হয় না।
আবার কেউ সরাসরি লিজ নিয়ে আসলে তাদের দোকান তুলতে দেওয়া হয় না। চিলাহাটি সীমান্ত রক্ষীর ক্যাম্প সংলগ্ন পুকুরটি স্টেশন মাস্টার ও বুকিং সহকারি বেড়া দিয়ে দখল করে মাছ চাষ শুরু করে। ওই পুকুরের ধারে কোন স্থাপনা বসালে ক্যাম্পের নানান সমস্যায় পড়তে পারে।
রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে রেলের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।