শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল। জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি […]

পবিপ্রবিতে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস, নেপথ্যে কর্মকর্তা জুয়েল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৫

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েল।

জানা যায়, ২০২৩ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা বরিশাল, রংপুর ও সিলেট বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগের পরীক্ষা আয়োজনের জন্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে একটি কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষাটিতে পবিপ্রবির কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে তিন হাজার চাকরিপ্রত্যাশী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।

কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলের নেতৃত্বে গুটিকয়েক কর্মকর্তা কেন্দ্র থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে কিছু পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধা দেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা। এ সময় জুয়েল তার দায়িত্বে থাকা পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠিয়ে দেন। বাইরে থাকা অপর কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সমাধান করে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরীক্ষার দিন সাইদুর রহমান জুয়েলের পূর্বনির্ধারিত দায়িত্ব ছিল কেন্দ্র-২ (প্রশাসনিক), যা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভবনের চতুর্থ তলার করিডোরে ৪০০ নম্বর কক্ষ হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এ সত্ত্বেও জুয়েল তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের স্বার্থে ড. শফিকের নেতৃত্বাধীন একাডেমিক কেন্দ্রে চলে যান। কেন্দ্র-২-এ সাইদুর জুয়েলের স্থলে তার নাম কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

জানা যায়, সাইদুর রহমান জুয়েলের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীল আরও কয়েকজনকে নিয়ে নিকটস্থ বগা ইউনিয়নের একটি স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অবস্থান করেন।

দিনটি শুক্রবার হওয়ায় স্কুলটি বন্ধ ছিল। এ সময় সাইদুর রহমান জুয়েলের পাঠানো প্রশ্নপত্রটি সমাধান করে পুনরায় পাঠানো হয়। স্কুলে অবস্থান করার কারণে মাধব হলের দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন। টিএসসি ভবনের কনফারেন্স রুমের পরিদর্শক হাজিরা সিট তথা সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অনুপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির হাতে আসা বেশ কিছু স্ক্রিনশটে এই প্রশ্ন ফাঁসের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকাল ১০টা ১ মিনিটে সাইদুর রহমান জুয়েলের হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। প্রশ্নপত্রটি ছিল ‘সুরমা’ সেটের, যার সেট কোড ছিল ৩৬৭১। ফিরতি বার্তায় প্রশ্নের উত্তরসম্বলিত একটি ছবিও পাঠানো হয়।

তবে এবারই প্রথম নয়, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে এর আগেও দুর্নীতির বড় বড় অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেওয়া অবৈধ নিয়োগ বাস্তবায়নে আওয়ামীপন্থী এই কর্মকর্তার ইন্ধন ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাধাদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত শিক্ষক ড. সন্তোষের সঙ্গে যোগসাজশে সে সময় বিপুল অঙ্কের নিয়োগ বাণিজ্য করেন সাইদুর জুয়েল। একই সঙ্গে তার আপন ভাইকে সেকশন অফিসার পদে ঐ নিয়োগে পদায়ন করা হয়।

সে সময় এই নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জুয়েলের প্ররোচনায় ড. সন্তোষ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে বিভিন্নভাবে হুমকিও দেন জুয়েল। পরবর্তীতে নিয়োগটির বৈধতা না থাকায় ও বাণিজ্যের অভিযোগে তা স্থগিত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ছাত্রাবস্থায় সাইদুর জুয়েল ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। ২০০৬ সালের মার্চ মাসে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি ছিলেন ১৪ নম্বর সদস্য। অভিযোগ আছে, এত দুর্নীতির পরও বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে তাকে কোনো ধরনের বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সাইদুর রহমান জুয়েলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অভিযোগ অবান্তর ও অসত্য। আমি কেন প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে বাইরে পাঠাবো? আমি এসব কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

পরীক্ষার আগ মুহূর্তে কেন্দ্র কেন পরিবর্তন করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পরীক্ষার কেন্দ্র তো আমি পরিবর্তন করিনি; কর্তৃপক্ষ কেন্দ্র পরিবর্তন করে আমাকে অন্য হলে পাঠিয়ে দিয়েছে।”

এ সময় প্রতিবেদকের হাতে থাকা প্রমাণাদির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে অনেক রাজনীতি চলে; এগুলো রাজনৈতিক উসকানি হতে পারে।”

অপর অভিযুক্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার মাধব চন্দ্র শীলকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “আমি এগুলোর সঙ্গে জড়িত নই। আমি অসুস্থ ছিলাম, তাই ওই দিন আমি ডিউটিতেই যাইনি। তাহলে আমি এগুলো সমাধান করে পাঠাবো কীভাবে? এসব অভিযোগ সত্য নয়।”

পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার উম্মে সালমা লাইজু প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায় রয়েছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক মহোদয় সার্বিক বিষয়টি তদারকি করেছেন। এমনকি মন্ত্রণালয় থেকেও কেন্দ্রে লোকবল নিয়োজিত ছিল। এরকম একটি ঘটনার পর তৎকালীন জেলা কমিটির উপরও দায় বর্তায়।”

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। এখন পর্যন্ত আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এ বিষয় সম্পর্কে আপনাদের কাছ থেকেই জানতে পারলাম। ইতোমধ্যে উক্ত পরীক্ষার নিয়োগও সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্ন ফাঁসের মতো কিছু সত্যিই ঘটে থাকে, আমরা এর তদন্ত করবো এবং তদন্তসাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এ সংক্রান্ত তথ্যাদি আমাদের কাছে উপস্থাপন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদি আমলে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচারের স্বার্থে একটি কমিশন গঠন করেছি। কমিশনটি ১১টি উপ-কমিটিতে বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে একটি উপ-কমিটি শুধুমাত্র প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত বিষয়ে কাজ করছে। প্রাথমিকের এই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আমি সেই কমিটির সঙ্গে কথা বলবো। এই প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টিও কমিশন তদন্ত করবে।”

শিক্ষাঙ্গন

নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসু থেকে পদত্যাগ করলেন সর্বমিত্র চাকমা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে […]

নিউজ ডেস্ক

২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে খেলতে যাওয়া প্রায় ২৫–৩০ জন কিশোর-তরুণকে কানে ধরে উঠবস করানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা। এ ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী-২ নামে ঢাবি শিক্ষার্থীদের ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে এমন তথ্য জানিয়েছেন সর্বমিত্র নিজেই। এসময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ ও জিমনেসিয়ামে শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠবস করানোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন।

পোস্টে সর্বমিত্র লেখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগতদের অবাধ অনুপ্রবেশ একটি গুরুতর নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিয়েছে। বহিরাগত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনা ঘটে , মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও সাইকেল চুরির মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও নিরাপদ পরিবেশকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তিনি বলেন, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বারবার প্রশাসনকে অবগত করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়নি, নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি, এমনকি বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা ও অসহযোগিতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তার অভিযোগ, বহিরাগতরা নিয়মিতভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিপরীত পাশের দেয়াল টপকে প্রবেশ করে। তাদের একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা তা অগ্রাহ্য করেছে। নিষেধ করতে গেলে তারা উল্টো স্টাফদের লক্ষ্য করে ঢিল ছুঁড়ে পালিয়ে যায়—যা একটি চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও কার্যকর সমাধান না আসায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ক্রমেই বাড়তে থাকে।

প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ করে সর্বমিত্র বলেন, এই প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আমি বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে তাদের কান ধরে উঠবস করাতে বাধ্য হই। এটি কোনোভাবেই আমার প্রত্যাশিত বা কাম্য আচরণ ছিল না। আমি স্বীকার করছি—এভাবে কাউকে শাস্তি দেওয়া আমার উচিত হয়নি এবং এই ঘটনার জন্য আমি নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

সর্বশেষ পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই সাথে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদ হতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্ত আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত , কারো প্রতি ক্ষুব্ধ বা অভিমানবশত নয়। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাকে প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিয়েছেন , আমি সে প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হইনি। প্রশাসনের অসহযোগিতা এবং ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে, আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার […]

হাদিকে জংলি আখ্যা দেওয়া ইবি শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি ছাত্রীদের

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২:০৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ‘জংলি’ বলে কটূক্তি করার অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আলতাফ হোসেন শরিফ ওসমান হাদিকে কটূক্তিমূলকভাবে ‘জংলি’ আখ্যা দেন।

ওই পোস্টে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমে হামলার ঘটনাগুলোর সঙ্গে হাদির নাম জড়িয়ে মন্তব্য করেন, যা শিক্ষার্থীদের মতে চরম অবমাননাকর ও উসকানিমূলক।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এতে লেখা ছিল—‘হাদিকে যিনি জংলি বলেন, তিনি নিজেই জঞ্জাল’, ‘আপনি জংলি কাকে বলেন? জুলাই যোদ্ধাকে?’, ‘হাদি ভাইয়ের মতো আমরা সবাই জংলি, এই জঙ্গলে আমরা এমন শিক্ষক চাই না’—ইত্যাদি।

এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের স্থায়ী বহিষ্কার নিশ্চিত করা, শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শিক্ষকদের অপতৎপরতা বন্ধ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা,

ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এবং শহীদ আবরার ফাহাদ ও শহীদ ওসমান হাদির নামে হল বা স্থাপনার নামকরণ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন বিপ্লবীকে ‘জংলি’ বলা শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও জাতির সম্মানকে অপমান করার শামিল। তারা দাবি করেন, যিনি জাতির বিবেক গঠনের দায়িত্বে আছেন, তাঁর কাছ থেকে এমন ভাষা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ক্যাম্পাসে আবারও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা মাথাচাড়া দিতে পারে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত শিক্ষক আলতাফ হোসেন বর্তমানে স্কটল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন।