আবু তাহের,জাককানইবি
জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে, ভরসা, আদর্শ ও অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে যাঁরা আমাদের জীবনের ভিত্তি নির্মাণে অবিচল ভূমিকা রাখেন, তাঁরাই আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে সমাজকে আলোকিত করেন শিক্ষকরা। তাঁরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নন, বরং শিক্ষার্থীদের জীবনের পথপ্রদর্শক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের শিক্ষায় গড়ে ওঠে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, সহিষ্ণুতা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন প্রজন্ম।
একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীর মনে জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করেন। তাই বলা হয়—শিক্ষক শুধু ছাত্র তৈরি করেন না, তিনি সমাজ গড়ে তোলেন।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা যায়, আজ আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেন, প্রত্যেক সফলতার পেছনে কোনো না কোনো শিক্ষকের পরিশ্রম, ত্যাগ ও অনুপ্রেরণা জড়িয়ে আছে। তাঁদের অবদান আমাদের জীবনে অমূল্য ও অনন্য।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা হক ফিমা বলেন, ‘শিক্ষকতা এক মহান পেশা, যেখানে জ্ঞানের আলোয় প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। শিক্ষক শুধু পাঠ্য জ্ঞান নয়, জীবনবোধ ও মানবিক মূল্যবোধও শেখান।
আমার রাহাত স্যার এমনই একজন, যিনি ইংরেজি শেখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবতার শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষকরা আমাদের জীবনের আলোকবর্তিকা—তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানই আমাদের কর্তব্য।’
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম তুলি বলেন, ‘শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহৎ দায়িত্ব ও সেবার নাম। আর শিক্ষকই জাতি গঠনের ভিত্তি। আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক বজলুর রহমান রশীদ স্যার—গণিতে ছিলেন পটু, হাতে ছিল অসাধারণ লিখা, স্বভাবে ছিলেন সৎ, সরল ও নীতিতে অটল। তাঁর কাছ থেকেই আমি শিখেছি সততা, শৃঙ্খলা আর আলোর পথে চলার শিক্ষা। পিতা-মাতার পর শিক্ষকের স্থান সবচেয়ে উচ্চে, কারণ আজকের আমি তাঁদেরই অবদানের ফল।’
হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. শারায়েত জামান বলেন, ‘শিক্ষকতা এমন এক সম্মানজনক পেশা, যা টাকায় মাপা যায় না। শিক্ষক পিতা-মাতার সমতুল্য—তিনি নিজের কাঁধে অন্যের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেন। আমার প্রিয় শিক্ষক জসীম স্যার ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস।
তিনি আমাদের শুধু পাঠ্যবই নয়, নানান বই পড়তে উৎসাহ দিতেন। তাঁর কাছ থেকেই শিখেছি—কোনো লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আগে তার পথচিত্র বুঝতে হয়। তাঁর পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনাই আমার জীবনে আলো ছড়িয়েছে, আর তাঁর মতোই একদিন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখি।’
পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফয়জুল হক বলেন, ‘শিক্ষকতা এক আশীর্বাদস্বরূপ পেশা, যা মানুষের জীবনে আলো ছড়ায়। শিক্ষক শুধু সমাজ নয়, পুরো জাতির সম্পদ। দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও বেতন এখনো সীমিত।
আমার জীবনের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মরহুমা তাহমিনা বেগম ম্যাডাম—বাংলা বিষয়ে আমার দক্ষতায় তাঁর অবদান অপরিসীম। আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন। শিক্ষকই শিক্ষা জীবনের পূর্ণতা দেন। তাঁদের কাছ থেকেই শিখেছি ন্যায়, সংযম ও জীবনের পথচলার শিক্ষা, যা সারাজীবন হৃদয়ে রাখব।’