জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জনগণের মুক্তি ও বৈষম্যহীন—ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলতেই থাকবে; গণমানুষের পরিপূর্ণ মুক্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।” শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কাফরুল দক্ষিণ থানার আয়োজিত মতবিনয় সভায় তিনি এ দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ সংসদীয় এলাকায় ইব্রাহিমপুর আশিদাগ রোডের মিলনায়তনে বক্তৃতায় বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলোই পেছনে ঠেলে দিয়েছে দেশের উন্নয়ন; ফলে বিগত ৫৪ বছরে দুর্নীতি রোধে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।
তিনি তাঁদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আল্লাহভীরু কয়েকজন মন্ত্রণালয় পরিচালনায় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না — কারণ তারা আল্লাহকে ভয় করতেন।” এ প্রেক্ষাপটে তিনি দেশকে দুর্নীতি ও অবিচার থেকে মুক্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
সভায় আমির বলেন, জামায়াতের আদর্শে সাড়ে তিন কোটি মানুষের বিশ্বাস রয়েছে এবং সেই জনগণকে কাজে লাগিয়ে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও অপরাধমুক্ত করা হবে। তিনি যোগ করেন, “লোক দেখানো শাস্তি নয় — যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।” আগামী নির্বাচনে জামায়াত দল জনগণের নিকট থেকে ব্যাপক সমর্থন সংগ্রহ করে দুর্নীতি ও অরাজকতা নির্মূলে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
ডা. শফিকুর রহমান এ প্রতিশ্রুতির নিচে তিনটি বড় ইশতেহার তুলে ধরেন — শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, দুর্নীতির মূলোৎপাটন এবং সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষকে সমান অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা যত দ্রুত গণমুখী ও জীবনমুখী হিসেবে পরিবর্তিত হবে, নতুন প্রজন্ম তত দ্রুত আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হবে। একই সাথে তিনি সমগ্র সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আপোষহীন থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, জনগণ যদি জামায়াতকে ক্ষমতায় পাঠায়, তাঁরা এমন এক সমাজ গড়বেন যেখানে কেউ অপরাধ করার সাহস পাবে না। তিনি সকলকে ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করার বার্তা দেন।
সভাটি কাফরুল দক্ষিণ থানার আমির উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মু. আবু নাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়; অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।