গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান কয়েকদিন আগেই দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন,
“শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষিত সময়েই নির্বাচন হবে।”
কিন্তু এবার সেই একই রাশেদ খান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তুলোধোনা করলেন তার ‘মিষ্টি কথা’ আর অকার্যকর টিম সিলেকশনের জন্য।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন,
“ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের মিষ্টি কথায় গদগদ হয়ে পড়ার সুযোগ কতটুকু আছে?” তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “আমরা বিচার ও সংস্কারের কথা শুনলে খুশিতে আত্মাহারা হয়ে পড়ি! এই বুঝি হাসিনাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে গণহত্যার বিচার সম্পন্ন হয়ে গেলো!”
রাশেদের অভিযোগ, ড. ইউনূস সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এর অন্যতম কারণ তার ভুল উপদেষ্টা পরিষদ গঠন। সমালোচনার পরেও তিনি পরিষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেননি। উপদেষ্টাদের ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,
“তিনি ফ্রান্স থেকে ফিরে এসে যাদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকের মত। উনাদের মাধ্যমে তিনি ১৬ বছর ধরে তৈরি হওয়া হাসিনার ফ্যাসিবাদি ব্যবস্থার চিকিৎসা করাতে চান!”
তার মতে, এই অযোগ্য উপদেষ্টাদের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার সার্জারি করতে গিয়ে ড. ইউনূস বরং সেই কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করেছেন। প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি থেকে শুরু করে সব দপ্তরে আওয়ামী সেটাপ আগের মতোই বহাল রয়েছে, বরং তা আরও শক্ত হয়েছে।
রাশেদ মনে করিয়ে দেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে প্রথম দায়িত্ব ছিল আওয়ামী সুবিধাভোগীদের—যারা ফ্যাসিবাদী কাঠামো গড়ে তুলেছিল—চাকরিচ্যুত করা ও শাস্তির মুখোমুখি করা। কিন্তু ড. ইউনূস আগের সেই সেটাপ রেখেই দেশ চালাচ্ছেন। বিচার ও সংস্কারের মিষ্টি কথা আসলে তার কাছে ‘মিষ্টি ধোঁকা’।
তিনি শেষমেষ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন,
“উপদেষ্টা পরিষদের এনজিও সার্কেলটা মিষ্টি কথায় পটু, কিন্তু বাস্তবায়নে উদাসীন ও অনভিজ্ঞ! যে কারণে বছর শেষেও আমরা নতুন স্বপ্নের মিষ্টি ধোঁকায় বেঁচে আছি। আমাদের ভাগ্যই খারাপ—বারবার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে আমাদের যোদ্ধারা জীবন দেয়, তবুও রাষ্ট্রের গুণগত ও পদ্ধতিগত পরিবর্তন হয় না!”