ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, বরং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই বিএনপির আন্দোলন,এমনটাই জানালেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলন হচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা।
শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়নি। আমরা গণতন্ত্রকে উদ্ধারের আন্দোলনে আছি এবং জনগণকেই এই আন্দোলনের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখি।”
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান সরকারকে হটানোর এই রাজনৈতিক আন্দোলন কোনো ‘অবৈধ ক্ষমতা দখলের’ পরিকল্পনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রয়াস।
গয়েশ্বর আরও বলেন, “একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে মৌলিক লড়াই, আর আজকের আন্দোলন হচ্ছে সেই স্বাধীনতার স্বার্থক বাস্তবায়ন। চব্বিশের গণআন্দোলন সেই চেতনারই অবিচ্ছেদ্য অংশ।”
এসময় বৈষম্যবিরোধীদের উদ্দেশ্যে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া কিছু পক্ষ নিজেরাই বৈষম্য তৈরি করছেন। তবে আন্দোলনে অংশ নেয়া ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ক্লাসে ফিরে গেছে, যা প্রমাণ করে ছাত্রসমাজ রাজনৈতিক সচেতন এবং দায়িত্বশীল।”
তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপিকে ক্ষমতায় ঠেকাতে নানা মহল থেকে ষড়যন্ত্র চলছে। যারা আমাদের ক্ষমতায় দেখতে চান না, তারা চাইলে একটি বৃহৎ ঐক্যজোট গঠন করে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে পারে। তখন ভোটের ফলেই জানা যাবে কে কতটা জনপ্রিয় এবং কার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।”
গয়েশ্বরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপি এই মুহূর্তে নির্বাচন নয়, গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। চলমান সংকট উত্তরণে তাদের দাবি হলো একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সূচনা।