প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘কথা’-তে সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন,
“এই যে আন্দোলন হচ্ছে, আপনি একটি আন্দোলনও ঠিকমতো মেটাতে পারেননি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন,
“দেশের মানুষের হাজারো যৌক্তিক দাবি রয়েছে, কিন্তু আপনি সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে কেবল এনসিপি কী বলে সেটিই দেখছেন। এনসিপি কোনো দাবি নিয়ে আসলেই তা বাস্তবায়িত হচ্ছে, কিন্তু যারা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন—তাদের প্রতিশ্রুতি বা চিকিৎসার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।”
মাসুদ কামাল বলেন,
“আপনি (ড. ইউনূস) কাজ করতে পারছেন না, হা-হুতাশ করছেন, কখনও পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছেন। এই কথাগুলো বলে জনগণের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিরোধটা কোথায়? বিএনপির দাবির বিষয়ে আপনি দ্বিধান্বিত—হয় আপনি তা মানতে চাইছেন না, নয়তো সেটা আপনার ক্ষমতার বাইরে।”
চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনের শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল উল্লেখ করেন, “একদিকে শাহাদাতকে শপথ করাচ্ছেন, অন্যদিকে আদালতের রায় নিয়ে এলেও ইশরাক হোসেনকে শপথ করতে দিচ্ছেন না। এতে আপনার সরকারের দ্বৈত নীতির চিত্র পরিষ্কার হয়ে উঠছে। আপনার একজন উপদেষ্টা তা বন্ধ করে দিচ্ছেন—এটা কি ন্যায়বিচার?”
মাসুদ কামালের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন সরকারের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে বিরোধী রাজনৈতিক জোট, সামাজিক বিশ্লেষক এবং সুশীল সমাজের একাংশ নানা দিক থেকে চাপ বাড়িয়ে চলেছে।
সম্পর্কিত প্রেক্ষাপট:
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্দোলনে প্রাণ হারানো ও আহত হাজারো নাগরিকের পরিবার এখনো সঠিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ’ ও নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ঘোষণার মধ্যেও জনগণের একটি বড় অংশ হতাশা প্রকাশ করছে। মাসুদ কামালের বক্তব্য সেই জনঅসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।